প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর, ২০২৫ ১১:৩২ (রবিবার)
টানা বৃষ্টির প্রভাব বাজারে, বেড়েছে মাছ-সবজির দাম

টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে রাজধানীর কাঁচাবাজারে। অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম। বিশেষ করে মাছ ও সবজির দামে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। এতে বেকায়দায় পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতারা।

শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি করলা ১০০ টাকা, উস্তা (ছোট করলা) ১২০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ থেকে ৯০ টাকা, বেগুন ১০০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া বরবটি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, গাজর ১২০ টাকা, কচুর লতি ৮০-১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, টমেটো ১০০-১৪০ টাকা।

কাঁচামরিচ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ২৮০ টাকা থেকে ৩২০ টাকা পর্যন্ত।

এদিকে সবজির পাশাপাশি মাছের বাজারেও লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়ছে। রুই মাছের কেজি ৩৫০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪০০ টাকা, কাতলা ৪২০ থেকে বেড়ে ৪৮০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে বেড়ে ২৪০ টাকা। দেশীয় মাছ যেমন টেংরা, শিং, কই ইত্যাদির দামও কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে।

ক্রেতারা মনে করেন, বাজারে সরকারের কঠোর নজরদারি নেই বলেই ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহ কমার কারণে দাম কিছুটা বাড়তেই পারে। তবে সাধারণ ভোক্তাদের অভিযোগ, শুক্রবার হলেই বাজারের দাম অকারণেই বেশি হয়ে যায়।

যাত্রাবাড়ীতে সবজি কিনতে আসা রহিমা বেগম ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘শুক্রবারে পরিবারের সবাই বাসায় থাকে, তাই চাহিদাও বাড়ে। বিক্রেতারা সেটা বুঝে দাম বাড়িয়ে দেন। কিন্তু এটা তো ন্যায্য নয়।’

শ্রমিক শাহেদ আলী বলেন, ‘মাছ তো সাধারণ মানুষের প্রোটিন। কিন্তু এখন মাছ কেনাও যেন বিলাসিতা হয়ে যাচ্ছে। গরিবের মাছ হিসেবে পরিচিত পাঙ্গাস-তেলাপিয়া আমাদের ভরসার শেষ জায়গা ছিল। কিন্তু সেটিরও দাম বেশি। বাজারে এলে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে যায়। কোনটা রেখে কোনটা কিনব এসব চিন্তায় দিশেহারা হয়ে যাই।’

বিক্রেতারা বলছেন, তারা অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়াননি। টানা বৃষ্টির কারণে গ্রাম থেকে ট্রাকে সবজি ও মাছ আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া পরিবহন খরচও বেড়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। আমরা জোর করে দাম বাড়াচ্ছি না। পাইকারি বাজারেই মাল বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

শনির আখড়ার ব্যবসায়ী আল আমিন বলেন, পাইকারি বাজারের দাম বাড়লে আমাদের কিছু করার থাকে না। আমি যদি অন্যদের থেকে বেশি দামে বিক্রি করি তাহলে তো ক্রেতারা আমার থেকে নেবে না। আমি কেন বাড়তি দামে বিক্রি করব। আমারও তো পরিবার সংসার আছে। খরচ আমারও বেড়েছে।

শুক্রবারে দাম বাড়ার বিষয়ে হাসান নামে এক বিক্রেতা বলেন, শুক্রবারে মানুষ বাজারে বেশি আসে। চাহিদাও বেশি থাকে। ফলে অনেকেই দাম কিছুটা বেশি রাখেন, এটা ঠিক।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি রোধে সরকারের কার্যকর বাজার মনিটরিং প্রয়োজন। তারা বলেন, মৌসুমি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগকে অজুহাত করে দাম বাড়ানো এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধারা ভাঙা জরুরি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টানা বৃষ্টির প্রভাবে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বাজারে কিছুটা মূল্যবৃদ্ধি স্বাভাবিক হলেও এর সুযোগে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দাম নিচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। আর তাই ভোক্তারা আশা করছেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দ্রুত বাজার মনিটরিং বাড়াবে এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে