প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর, ২০২৫ ২১:১০ (শনিবার)
হকার মুক্ত সিলেট নগরী, প্রশংসায় ভাসছে প্রশাসন

সিলেট নগরীর প্রধান সড়ক ও ফুটপাতগুলো রোববার সকাল থেকে হকারমুক্ত দেখা গেছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী নগরের বিভিন্ন এলাকায় থাকা হকাররা স্বেচ্ছায় সরে গেছেন। ফলে নগরবাসী পেয়েছে এক ভিন্ন চেহারার সিলেট—যানজটমুক্ত ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ।

নগরের জিন্দাবাজার, লামাবাজার, চৌহাট্টা, আম্বরখানা, বন্দরবাজার ও তালতলা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও কোনো হকার নেই। সকাল থেকে সড়ক ও ফুটপাতগুলো ছিল মুক্ত। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য বিভিন্ন এলাকায় টহল দেন। সন্ধ্যায় পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী পরিদর্শনে যান জিন্দাবাজার এলাকায়।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, নগরের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একযোগে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অংশ নেন সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তবে তার আগেই হকাররা সড়ক ও ফুটপাত ছেড়ে চলে যান।

প্রসঙ্গত, শনিবারই প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল,রোববার থেকে নগরের সড়ক ও ফুটপাতে কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না। নির্দেশ অমান্য করলে নেওয়া হবে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা।

হকারদের পুনর্বাসনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে লালদিঘির পাড় মাঠ। তবে রোববার সেখানে অল্প সংখ্যক হকারকে দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, সেই স্থানে ক্রেতা সমাগম না থাকায় ব্যবসা হচ্ছে না। এছাড়া মাঠে প্রবেশের রাস্তাও সরু হওয়ায় সমস্যা হচ্ছে।

একজন হকার বলেন, “আমরা এর আগেও দুবার এখানে এসেছি। কিন্তু বিক্রি হয় না। ব্যবসা না করলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। আমরা চাই প্রশাসন আমাদের জন্য স্থায়ী ও সুবিধাজনক ব্যবসার জায়গার ব্যবস্থা করুক।”

অন্যদিকে, হকারমুক্ত নগর দেখে খুশি নগরবাসী ও ব্যবসায়ীরা। বন্দরবাজার হাসান মার্কেটের ব্যবসায়ী সোহাগ বলেন, “আমাদের মার্কেটের সামনে সব সময় হকাররা বসে থাকতেন। রাস্তায় তীব্র যানজট থাকতো। আজ দেখি সব ফাঁকা, স্বস্তি পাচ্ছি।”

তবে এই পরিস্থিতি স্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে। তারা বলছেন, প্রশাসনের কঠোর অবস্থান যদি অব্যাহত থাকে, তবেই পরিবর্তন সম্ভব।

জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানান, “লালদিঘির পাড় মাঠে হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সবাইকে সেখানে চলে যেতে হবে। নগরের ব্যস্ত এলাকার ফুটপাতে হকার বসতে দেওয়া হবে না। কেউ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, লালদিঘিরপাড় হকার মার্কেটের কাজ প্রায় শেষের দিকে। এখানে ২ থেকে ৩ হাজার হকারের ব্যবসার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট পণ্যের জন্য আলাদা এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রশাসনের দাবি, এই অভিযান একদিনের নয়—চলবে ধারাবাহিকভাবে, যতদিন না পর্যন্ত সিলেট নগরীর ফুটপাত ও সড়ক সম্পূর্ণভাবে দখলমুক্ত রাখা যায়।