প্রকাশিত: ২৮ মার্চ, ২০২৬ ১৬:০১ (মঙ্গলবার)
সিলেটে অপহরণ ও মুক্তিপণ চক্রের ১০ সদস্য রিমান্ডে মিললো চাঞ্চল্যকর তথ্য

শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাদেরকে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। শুনানি শেষে বিচারক আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে গত ১৫ মার্চ আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং তদন্ত কর্মকর্তাকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে রিমান্ড কার্যকর করার নির্দেশনা দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাসুদ আহমেদ ২৪ মার্চ সকালে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় আসামিরা নিজেদের শিক্ষার্থী দাবি করে এবং অপহরণ চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে। তবে ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোনের ডিজিটাল প্রমাণ সম্পর্কে জানতে চাইলে অনেকেই সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি।

এক আসামি দাবি করে, “বন্ধুদের আড্ডার ছলে ভুলবশত আমরা এই ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছি, ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো অপরাধ করিনি।”

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশ আরও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। ওই ফোনে ভুক্তভোগীদের ওপর নির্যাতনের ভিডিও পাওয়া গেছে। এছাড়া বিকাশের মাধ্যমে টাকা লেনদেনের তথ্যও মিলেছে।

এর আগে ৮ মার্চ সন্ধ্যায় কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল নগরীর তাঁতীপাড়া এলাকার ‘নাজমা নিবাস’ নামের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে অপহৃত প্রবাসী জাহিদ আহমদ (৪২) কে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তাঁতীপাড়া পয়েন্ট এলাকা থেকে সুহেল সরকার (২২) নামের এক যুবককে ১৪-১৫ জন দুর্বৃত্ত জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে একটি বাসার দ্বিতীয় তলায় আটকে রেখে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মারধর করা হয় এবং তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। একই সঙ্গে তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে তাকে ছেড়ে দিলে তিনি থানায় অভিযোগ করেন। অভিযানের সময় আসামিদের কাছ থেকে আরেক ভুক্তভোগী জাহিদ আহমদকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারদের কাছ থেকে দুই ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন, নগদ টাকা এবং ঘটনার সময় ব্যবহৃত চাকু, কেচি ও লোহার রড উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সুহেল সরকার বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেছেন।