প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ২১:১৫ (সোমবার)
সিসিক এলাকায় হাম-রুবেলার টিকা পাবে ৬৮ হাজার শিশু

জাতীয় হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশের মতো সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) এলাকায় শুরু হতে যাচ্ছে। ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে এক ডোজ করে এমআর ভ্যাকসিন, অর্থাৎ হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হবে।

 এক মাসব্যাপী এই ক্যাম্পেইন চলবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সিলেট সিটি করপোরেশনে মোট ৬৮ হাজার ৫৪০ জন শিশুকে এ ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে সিলেট নগরভবনে সাংবাদিক ও ইমামদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

এসময় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে সিসিক এলাকাসহ সারা দেশে হাম-রুবেলা টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হবে।

অগ্রগামী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে সমাবেশের মাধ্যমে টিকাদানের উদ্বোধন করবেন এ আসনের সংসদ সদস্য, শিল্প ও বাণিজ্য এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, ক্যাম্পেইন পরিচালনার মতো পর্যাপ্ত জনবল আমাদের নেই।

তারপরও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে আমরা মাসব্যাপী ক্যাম্পেইন চালিয়ে নেবো। এক্ষেত্রে মানুষকে সচেতন করতে গণমাধ্যম ও মসজিদের ইমাম এবং ধর্মীয় নেতাদের সহযোগিতা চাই।
টিকা বিষয়ে ব্রিফিং করেন সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম। এসময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের একজন করে প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

তারা জানান, প্রথম ধাপে প্রতিটি ওয়ার্ডের কমিউনিটি লেভেলে এবং পরবর্তী ধাপে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই টিকা প্রদান করা হবে।

প্রতিদিন ৮৪টি টিম টিকাদান কাজে নিয়োজিত থাকবে। প্রতিটি টিমে ২ জন ভ্যাকসিনেটর ও ৩ জন স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

কমিউনিটি লেভেলে আট কর্মদিবস এবং স্কুল লেভেলে ছয় কর্মদিবস হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন চলবে।

কমিউনিটি লেভেলে সিলেট সিটি করপোরেশনের নিয়মিত টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে এই ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। কোনো শিশু নিয়মিত টিকাদান কেন্দ্রে টিকা গ্রহণে ব্যর্থ হলে স্থায়ী কেন্দ্র থেকে টিকা গ্রহণ করতে পারবে।

সিসিকের স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রগুলো, সিলেট সিটি করপোরেশন কার্যালয়, মডেল ক্লিনিক, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিনোদিনী নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ধোপাধিঘীরপাড়, ওসমান মিয়া মার্চেন্ট মা ও শিশু হাসপাতাল, কুমারপাড়া, সিলেট।

সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এই গ্যাপের কারণে হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এখনও অনেক শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

তিনি বলেন, টিকাদান কর্মসূচি চলাকালে কোনো শিশু টিকা নিতে ব্যর্থ হলে স্থায়ী কেন্দ্রে গিয়ে টিকা নিতে পারবে। জ্বর অবস্থায় কিংবা অসুস্থ ও হাম-আক্রান্ত শিশুদের টিকা দেওয়া যাবে না। সুস্থ কোনো শিশু টিকা নেওয়ার পর কান্নাকাটি করলে বা জ্বর এলে বুঝতে হবে টিকা দেহে কাজ করছে। এরপরও টিকা দেওয়ার পর শিশুকে কিছুক্ষণ কেন্দ্রে পর্যবেক্ষণে রাখা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আগে কোনো শিশু হামের টিকা পেয়ে থাকলেও সে আবার টিকা পাবে, কেননা টিকার কার্যকারিতা ৬ মাস পর্যন্ত থাকে। এই টিকা নেওয়ার পরও অন্যান্য টিকাদান কার্যক্রম চলবে। 

এ ছাড়া সবাইকে গুজবে কান না দিয়ে তা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ড. ফজলুল কাদের বলেন, সিলেটে হাম-রুবেলার সন্দেহভাজন (সাসপেক্টেড) কেস ৩৩৩ জন এবং সিলেটে ৫ জনসহ সারা দেশে ১৭০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সিলেটে মৃত্যুর হার অন্যান্য জেলার তুলনায় কম। যারা মারা গেছেন, তাদের দেহে অন্যান্য জটিলতা (কমপ্লিকেশন) ছিল। তবে হামের প্রকোপ ৮০ শতাংশ কমেছে বলে দাবি করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় সাংবাদিক ও বিভিন্ন মসজিদের ইমামরা উপস্থিত ছিলেন