সিলেট নগরীর কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা এলাকায় চার বছর বয়সী শিশু ফাহিমা হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত জাকির এলাকাবাসীর সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজাখুঁজি এবং আন্দোলনেও অংশ নিয়েছিল বলে জানিয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)।
মঙ্গলবার (১২ মে) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসএমপির উত্তর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
তিনি জানান, ঘটনার পর এলাকাবাসী যখন ফাহিমাকে খুঁজছিল, তখন অভিযুক্ত জাকিরও তাদের সঙ্গে ছিল। এমনকি পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার সময়ও সে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৬ মে সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দিতে পাঠানো হয়। শিশুটি সিগারেট এনে দেওয়ার পর জাকির তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেয়। সে সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। জিজ্ঞাসাবাদে জাকির জানিয়েছে, ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ প্রথমে ঘরের ভেতরে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখা হয়। এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু হলে সেটি বাড়ির নিচে সরিয়ে রাখা হয়। পরে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় মরদেহ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে মরদেহ পানিতে না ডোবায় সেটি পাশেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অভিযুক্তের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব আলামত তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষার জন্য জব্দ করা হয়েছে।
উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত সরাসরি অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর ধর্ষণের অভিযোগ যুক্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, মাদক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিলেট মহানগরে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি তা আরও জোরদার করা হবে
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.