সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে ইতোমধ্যে মাঠে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় জাতীয় নির্বাচনের মতো এই নির্বাচনেও দলটির অংশগ্রহণের সুযোগ থাকছে না। ফলে বিএনপি ও জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতাই এখন বেশি চোখে পড়ছে।
এর মধ্যে মেয়র পদে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সিসিক নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য সিলেট থেকে তিনজন নেতার নাম কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্র চাইলে এই তিনজনের মধ্য থেকে একজনকে মনোনয়ন দিতে পারে, আবার তাদের বাইরেও কাউকে প্রার্থী ঘোষণা করার সুযোগ রয়েছে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো তিন নেতার নাম হলো— সিলেট জেলা জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এবং জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা লোকমান আহমদ।
এদের মধ্যে মাওলানা হাবিবুর রহমান গত সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ (নগর-সদর) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হলেও ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৮৩ ভোট পেয়েছিলেন। অন্যদিকে ফখরুল ইসলাম অতীতে কোনো নির্বাচনে অংশ না নিলেও দীর্ঘদিন ধরে মহানগর জামায়াতের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। আর মাওলানা লোকমান আহমদ গত সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেলেও জোটগত সিদ্ধান্তে পরে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি শাহজাহান আলী বলেন, “কিছুদিন আগে আমরা কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য তিনজনের নাম পাঠিয়েছি। কেন্দ্র যাকে মনোনয়ন দেবে, আমরা তার পক্ষেই কাজ করবো।”
তিনি আরও বলেন, “এ ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের জানানো হয়নি।”
এদিকে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে, সিসিক নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হতে পারেন সিলেট জেলা জামায়াতের সভাপতি মাওলানা হাবিবুর রহমান। কেন্দ্রীয় সূত্রের বরাতে এমন খবর কয়েকটি গণমাধ্যমেও প্রকাশ হয়েছে।
তবে বিষয়টিকে ‘অনুমাননির্ভর প্রচার’ বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “কেন্দ্র থেকে এখনো এমন কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের জানানো হয়নি। সিদ্ধান্ত এলে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে সবাইকে জানিয়ে দেব।”
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.