মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌর জামায়াতের সাবেক সভাপতি খিজির আহমদকে ২০১৩ সালের একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২০ জুন) সকালে তাকে বড়লেখা আমলি আদালতের মাধ্যমে মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। উপজেলার হাজীগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ১০টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় ঘোষণার দিন বড়লেখায় সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় জামায়াতকর্মী লোকমান আহমদ নিহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় খিজির আহমদ পরোয়ানাভুক্ত আসামি ছিলেন।
গ্রেফতারকৃত খিজির আহমদের ছোট ভাই তারেক আহমদ বলেন, “আমার বড় ভাই খিজির আহমদ দীর্ঘদিন ধরে কাতারে অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি নিয়মিত দেশে আসা-যাওয়া করছেন। ২০১৩ সালের একটি রাজনৈতিক মামলার ওয়ারেন্ট দেখিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা মনে করি, এটি একটি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা।”
এদিকে বড়লেখা উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এমাদুল ইসলাম বলেন, “খিজির আহমদ দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে অবস্থান করছেন এবং তিনি বড়লেখা এলাকার একজন জনপ্রিয় জামায়াত নেতা। অতীতে তিনি পৌর মেয়র নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হলেও তৎকালীন সরকার তার বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছিল বলে আমরা মনে করি। ২০১৩ সালের রাজনৈতিক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা অত্যন্ত দুঃখজনক। বর্তমানে অনেক পুরোনো রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এ অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করাকে আমরা অযৌক্তিক মনে করি এবং এর তীব্র নিন্দা জানাই।”
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান বলেন, ‘‘খিজির আহমদ মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি। তাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জামিনের বিষয়টি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।’’
খিজির আহমদের গ্রেফতারের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। তার সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘদিন আগে দায়ের হওয়া মামলায় এ গ্রেফতার অপ্রত্যাশিত। তারা তার মুক্তি দাবি করেছেন।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.