৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সিলেটসহ দেশের কয়েকটি জেলায়। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা।
রোববার (২১ জুন) আবহাওয়া অধিদফতরের দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। আবহওয়ার এই সর্তকবার্তা বিফলে যায়নি। আজ সকাল থেকে ঝড়ো বৃষ্টিতে কাটছে গোটা সিলেট। এরই মধ্যে সীমান্তের ওপারে ভারতের উজান এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত ও ঢলের কারণে নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। সিলেটে দেখা দিয়েছে বন্যার আশংকা।
ইতোমধ্যে ভারতের উজান এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত ও ঢলের কারণে তলিয়ে গেছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্র। যার ফলে সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এই পর্যটন কেন্দ্রটি ।
এ তথ্য জানিয়ে রবিবার (২১ জুন) কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিন মিয়া বলেন, ‘ভারতে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢলে সাদাপাথর তলিয়ে গেছে। স্রোতও খুব বেশি। তাই সাময়িকভাবে পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
’স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, পাহাড়ি ঢলের তোড়ে পর্যটনকেন্দ্রের আশপাশের দোকানপাট পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে পুরো এলাকাজুড়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আবহাওয়ার উন্নতি ঘটলেই পুনরায় দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে সাদাপাথর, এমন তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এক পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। এ অবস্থা চলমান থাকলে দু-এক দিনের মধ্যে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর বেশিরভাগ পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। সিলেট বিভাগের সারি, গোয়াইন, লোভাছড়া, ধলাই নদীর পানিও সমান তালে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডও সতর্কতা দিয়ে বলছে, আগামী তিন দিন পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েক দিনের অব্যাহত বৃষ্টিতে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতে প্লাবনের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আবহাওয়াবিদ রুদ্র তালুকদার জানান, এই বৃষ্টিপাত আরও অন্তত কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম। তিনি বলেন, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে এবং মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে এবং কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দু এক দিনের মধ্যে নদীগুলোর একাধিক পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া সারি, গোয়াইন, লোভাছড়া ও ধলাই নদীর পানিও একইভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী তিন থেকে চার দিন সিলেট বিভাগ এবং এর উজানে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্টরা।
রোববার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৯ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ছিল ১৪২ মিলিমিটার। দুপুর পর্যন্তও বৃষ্টি অব্যাহত ছিল।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, উজানে বিশেষ করে মেঘালয় অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাত হলে সিলেটের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে এবং বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.