প্রকাশিত: ২৭ জুন, ২০২৬ ২২:২৪ (মঙ্গলবার)
আর্জেন্টিনার সামনে লড়াকু কেপ ভার্দে, মেসিদের পথ কি সহজ?

২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় রূপকথার নাম কেপ ভার্দে। মাত্র পাঁচ লাখের কিছু বেশি জনসংখ্যার আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপদেশটি বিশ্বকাপে প্রথম অংশ নিয়েই জায়গা করে নিয়েছে শেষ ৩২ এ। আর সেই ঐতিহাসিক যাত্রার পর তাদের সামনে অপেক্ষা করছে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

বাংলাদেশ সময় আগামী ৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে শেষ ৩২ এর নকআউট ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল। কাগজে-কলমে লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা স্পষ্ট ফেভারিট হলেও, এবারের বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের পারফরম্যান্স বলছে ম্যাচটি মোটেও একপেশে হবে না।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে কেপ ভার্দেকে গ্রুপ 'এইচ' এর সবচেয়ে দুর্বল দল হিসেবে ধরা হয়েছিল। কিন্তু সেই ধারণা বদলে দিয়েছে তারা নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে। স্পেনের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র, সৌদি আরবের বিপক্ষে আরেকটি ড্র এবং উরুগুয়ের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ফল মিলিয়ে গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে নকআউটে জায়গা করে নেয় আফ্রিকার দেশটি। অভিষেক বিশ্বকাপেই নকআউটে উঠে জনসংখ্যার হিসেবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে নতুন ইতিহাসও গড়েছে তারা।

বিশেষ করে স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের রক্ষণ ছিল পুরো টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা প্রদর্শনী। স্পেন ৭৪ শতাংশ বলের দখল রেখে ২৭টি শট নিয়েছিল, কিন্তু গোল করতে পারেনি একটিও। গোলরক্ষক ভোজিনহার দুর্দান্ত সাতটি সেভ এবং পুরো দলের শৃঙ্খলাবদ্ধ ৪-৫-১ রক্ষণাত্মক কাঠামো স্পেনের আক্রমণকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, কেপ ভার্দের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের কমপ্যাক্ট ডিফেন্স। রক্ষণ ও মাঝমাঠের মধ্যকার দূরত্ব খুব কম রেখে তারা প্রতিপক্ষকে মাঝখানে জায়গা তৈরি করতে দেয় না। প্রতিপক্ষ বলের দখল রাখলেও বিপজ্জনক এলাকায় ঢুকতে পারে না। একই কৌশলেই তারা স্পেনকে আটকে দিয়েছে এবং পুরো বিশ্বকে চমকে দিয়েছে।

তবে আর্জেন্টিনার আক্রমণের ধরন কিছুটা আলাদা। স্কালোনির দল শুধু বলের দখল নয়, দ্রুত পাস, অবস্থান পরিবর্তন এবং ছোট জায়গায় আক্রমণ তৈরিতে বেশি দক্ষ। লিওনেল মেসি এবারের বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে ১৮ গোল নিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন জুলিয়ান আলভারেজ, লাউতারো মার্টিনেজ ও আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের মতো ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার সামর্থ্যসম্পন্ন ফুটবলাররা।

অন্যদিকে কেপ ভার্দেও আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। কোচ বুবিস্তা স্পষ্ট করে বলেছেন, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তারা নিজেদের পরিচয় হারিয়ে শুধু রক্ষণে ব্যস্ত থাকবে না; নিজেদের ফুটবল খেলেই বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চ্যালেঞ্জ জানাতে চায় তার দল।

নকআউট ফুটবলে ভুলের সুযোগ নেই। ৯০ মিনিটের একটি মুহূর্তই বদলে দিতে পারে পুরো টুর্নামেন্টের গল্প। তাই মেসিদের সামনে শুধু একটি ছোট দেশের দল নয়, বরং আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও সাহসে ভরপুর এক ইতিহাস গড়া প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করছে।

কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনা এগিয়ে। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপ বারবার প্রমাণ করেছে, নাম নয় পরিকল্পনা আর বিশ্বাসই সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই কারণেই কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর এই লড়াই বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য মোটেও সহজ হতে যাচ্ছে না।