প্রকাশিত: ০৫ জুলাই, ২০২৬ ২০:৩২ (সোমবার)
৪ মাস পর চালু হলো ম্যানচেস্টার-সিলেট সরাসরি ফ্লাইট, উচ্ছ্বসিত প্রবাসীরা

দীর্ঘ চার মাস পর আবারও চালু হয়েছে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার থেকে সিলেটের সরাসরি ফ্লাইট। বহুল প্রত্যাশিত এই ফ্লাইট চালু হওয়ায় স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশিরা, বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের বাসিন্দারা।

প্রবাসীদের দাবি, সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ থাকায় তাদেরকে লন্ডন হয়ে কিংবা একাধিক ট্রানজিট ব্যবহার করে দেশে ফিরতে হতো। এতে সময়, খরচ এবং ভোগান্তি সবই বেড়ে গিয়েছিল। ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ায় এখন যাত্রা হবে আরও সহজ, দ্রুত এবং আরামদায়ক।

ফ্লাইট চালুর প্রথম দিনেই ম্যানচেস্টার থেকে আসা যাত্রীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করা হয় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। প্রিয়জনদের সঙ্গে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মিলিত হয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেক যাত্রী।

প্রবাসীরা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও এই রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে এবং যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত হবে। তাদের মতে, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক সিলেটি প্রবাসীর জন্য ম্যানচেস্টার-সিলেট সরাসরি ফ্লাইট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ফ্লাইট পুনরায় চালুর মাধ্যমে প্রবাসীদের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমও আরও গতিশীল হবে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশই সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট চালু হয়েছে, এটা বন্ধ হওয়ার কোনো অবকাশ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম। 

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে ওসমানী বিমানবন্দরে ম্যানচেস্টার ফ্লাইটের যাত্রীদের অভ্যর্থনা জানানো শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন শিল্প ও বাণিজ্য এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

মিজ আফরোজা খানম বলেন, আমাদের লক্ষ্য এই বিমানবন্দরকে প্রধান্য দেওয়া।

আমরা দেখেছি, অনেক প্রবাসী সরাসরি সিলেটে আসতে চান। দেশের প্রতি তাদের আলাদা একটা মায়া আছে।
অন্যান্য জেলার তুলনায় সিলেটের মানুষ সব সময় ব্যতিক্রম। ম্যানচেস্টারের জন্য যেভাবে আকুতি জানিয়েছেন, আমার মনে হয়েছে, এটা আমাকে খুলতেই হবে।
এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথেও আলোচনা করেছি।

১২৬ দিন পর চালু হওয়া ফ্লাইট বন্ধ হবে কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে ফ্লাইট চালু হয়েছে, আমরা চাই, সেটা চালু থাকুক। এয়ারক্রাফট চলে এসেছে, যে কারণে এটা আর বন্ধ হবে না।

সিলেট-কক্সবাজার ফ্লাইট যতদ্রুত সম্ভব চালু করার চেষ্টা রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম আরও বলেন, শুধু বিমান চলাচল নয়, সিলেটের ট্যুরিজমকে একটি ভাল পর্যায়ে নিতে পারি, সে উদ্যোগ রয়েছে। আমরা সিলেটে ট্যুরিজমের হাব তৈরী করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

সিলেটে বিমানের অভ্যন্তরীণ রুটে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আভ্যন্তরীণ নিয়ে আমরা কাজ করছি। বিমানে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা সরাতে সময় লাগবে। অবশ্য মধ্যবিত্তরাও যাতে বিমানে ভ্রমণ করতে পারেন, সে চেষ্টা আমাদের রয়েছে।

আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স সিলেটে না আসা নিয়ে তিনি বলেন, আমরা সার্বিক বিষয় নিয়ে কাজ করছি। বিমানের অবস্থান থেকে ভাড়া যতটুকু সাশ্রয় করা যায়, চেষ্টায় রয়েছি।

বিমানবন্দর সম্প্রসারণের কাজ ২০২৭ সালের দিকে শেষ হবে এবং আমরা হাতে পেয়ে যাবো বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তখন এই বিমানবন্দর আন্তর্জাতিকভাবে আরো ফোকাস হয়ে যাবে। 

হিথ্রেুা থেকে ঢাকায় ৮০০ পাউন্ড বিমানের ভাড়া, আর সিলেটের ১২০০-১৩০০ পাউন্ড হয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যুক্তরাজ্যে গিয়েও একই অভিযোগ শুনে এসেছি। এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। 

শিল্প ও বাণিজ্য এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেট-ম্যানচেষ্টার ফ্লাইট প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি। প্রধানমন্ত্রী সেটা চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। এতে প্রবাসে থাকা এ অঞ্চলের মানুষের কষ্ট লাঘব হবে। আজকের দিনটি আমাদের জন্য খুশির দিন। এই ফ্লাইট চালুর বিষয়ে আমরা সবাই সচেতন ছিলাম।

তিনি বলেন, আমার নির্বাচনী ম্যানুফেস্টেও ছিল, সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে একটি রিজিওনাল হাব হিসেবে তৈরি করতে চাই। অর্থাৎ বাংলাদেশের আশপাশের অঞ্চলের ফ্লাইটগুলো যেনো এখানে আসে। আমাদের ইচ্ছা আছে, সিলেট থেকে গোহাটি ও অন্যান্য রুটে যেনো বিমান চলাচল করে। তাতে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার হবে, বাণিজ্যও আরও সমৃদ্ধ হবে।

এর আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট (বিজি-২০৮) সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে ম্যানচেস্টার থেকে ২৬৮ যাত্রী নিয়ে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। এরমধ্যে ২২৭ জন যাত্রী সিলেটে নামেন। যাত্রীদের স্বাগত জানাতে উপস্থিত হন শিল্প ও বাণিজ্য এবং পাঠ ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

এছাড়া সিলেট এমএমজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ, সিলেট বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।