প্রকাশিত: ০৭ জুলাই, ২০২৬ ২০:৩১ (বুধবার)
কান্নায় শেষ হলো রোনালদোর বিশ্বকাপের স্বপ্ন, ইয়ামালের সান্ত্বনা

স্পেনের কাছে নাটকীয় হারের মধ্যদিয়ে এবারের বিশ্বকাপ অভিযানের ইতি হলো পর্তুগালের। সেই সঙ্গে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে শেষ হয়ে গেল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারও।

নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা প্রথম মিনিটে মিকেল মেরিনোর নিখুঁত ফিনিশে ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছে স্পেন। গোলের সুযোগ খুব বেশি তৈরি না হওয়ায় ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে বলেই মনে হচ্ছিল। তবে শেষ মুহূর্তের গোলে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে স্পেন। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ হবে আজকের যুক্তরাষ্ট্র বেলজিয়াম ম্যাচের বিজয়ী।

৪১ বছর বয়সী রোনালদো ম্যাচের আগেই জানিয়েছিলেন, এটাই হবে তার শেষ বিশ্বকাপ। সেক্ষেত্রে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম এই মহাতারকার বিদায়টা হলো অনেকটাই নীরবে। শেষ বাঁশি বাজার পর চোখের জল নিয়ে মাঠ ছেড়ে যান রোনালদো।

টানেলের দিকে ধীর পায়ে হাঁটছিলেন তিনি এবং ক্যামেরাও যেন তাকে ছাড়তে চাইছিল না। করিডর পেরিয়ে ড্রেসিংরুমের দরজা পর্যন্ত অনুসরণ করা সেই দৃশ্যের বিপরীতে মাঠে তখনও উৎসবে মেতে আছে স্পেনের ফুটবলাররা। একই মুহূর্তে ধরা পড়ছিল দুই ভিন্ন অনুভূতি— একদিকে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার উল্লাস, অন্যদিকে এক কিংবদন্তির বিশ্বকাপ-স্বপ্নের শেষ। স্পেন ১–০ গোলের জয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে, আর পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষ হয়ে গেল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পথচলা।

ডালাস স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর ম্যাচটি দীর্ঘ সময় ধরে গোলশূন্য ছিল। স্পেন বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও পর্তুগাল রক্ষণভাগ বেশ গোছানো ছিল। শেষমেশ ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা নস্যাৎ করে দিয়ে নির্ধারিত সময়ের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে সমীকরণ বদলে দিলেন মিকেল মেরিনো। ফেরান তোরেসের পাস থেকে করা তার একমাত্র গোলেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্পেন।

অবশ্য গোল হজমের পর সমতায় ফেরার সুযোগও পেয়েছিল পর্তুগাল। কিন্তু সেই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেনি রবার্তো মার্তিনেসের দল। পরে হয়তো তাদের আক্ষেপ থাকবে, পিছিয়ে পড়ার আগেই যদি আক্রমণে আরও সাহসী হতে পারত!

শেষ পর্যন্ত অবশ্য সেই আক্ষেপে আর কিছু বদলায়নি। স্পেন উঠে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে।

শেষ বাঁশি বাজার পর স্পেনের ফুটবলাররা যখন জয়ের আনন্দে মেতে ওঠেন, তখন পর্তুগাল শিবিরে নেমে আসে হতাশার কালো মেঘ। রোনালদো ধীর পায়ে মাঠ ছেড়ে টানেলের দিকে হাঁটতে থাকেন। সম্প্রচারে টেলিভিশনের ক্যামেরাও অনুসরণ করে তার প্রতিটি পদক্ষেপ। করিডর পেরিয়ে ড্রেসিংরুম পর্যন্ত সেই দৃশ্যই ছিল ম্যাচ-পরবর্তী সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তগুলোর একটি। এ সময় তাকে সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে আসেন স্পেনের উদীয়মান তারকা লামিনে ইয়ামাল।