প্রকাশিত: ০৭ জুলাই, ২০২৬ ২০:৪০ (বুধবার)
সিলেটসহ ৪ বিভাগে বন্যার পূর্বাভাস

দেশে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বন্যা তথ্য কেন্দ্রের সবশেষ বার্তায় এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

বন্যা তথ্য কেন্দ্রের পূর্বাভাসে বলা হয়, অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার কিছু কিছু স্থানে নদনদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। যার ফলে এসব অঞ্চলের নদী সংলগ্ন নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

এছাড়া উজানে ভারতের আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং পশ্চিমবঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদনদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।

এসব জেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

এছাড়া রংপুরের তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলছেন, আগামী তিন থেকে চার দিন ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় দেশের উত্তর ও দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় নদ-নদীর পানি বেড়ে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে, তিন থেকে চার দিন পর বৃষ্টির মাত্রা কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে নদ-নদীর পানিও কমতে শুরু করবে। ফলে এখনই বন্যা স্থায়ী রূপ নেওয়ার শঙ্কা কম বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রামে। বন্দরনগরীতে ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ। টানা অতি ভারী বৃষ্টির ফলে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কক্সবাজারে পাহাড় ধসে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাহাড় ধসের শঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে জনসাধারণকে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানিয়েছেন, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

আবহাওয়ার সিনপটিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড ও তৎসংলগ্ন উড়িষ্যা এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি স্থল নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দুর্বল অবস্থায় বর্তমানে পূর্ব মধ্যপ্রদেশ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে সরে গিয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এ অবস্থার প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য বেশি রয়েছে। মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, সুস্পষ্ট লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে এটি প্রবল অবস্থায় রয়েছে।