প্রকাশিত: ১১ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৪৮ (রবিবার)
মৌলভীবাজারে মেয়েকে পাতিলে বসিয়ে আশ্রয়ের খোঁজে বাবা

ডুবে গেছে বসতভিটা, উঠান, গ্রামের পথ। বুকসমান পানির মধ্যে এক বাবার হাতে বড় একটি অ্যালুমিনিয়ামের পাতিল। তার ভেতর নিশ্চিন্তে বসে আছে ছোট্ট মেয়ে। পানির তীব্র স্রোত সামলে ধীর পায়ে এগিয়ে যাচ্ছেন বাবা। সন্তানকে নিয়ে তিনি ছুটছেন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। 

শুক্রবার (১০ জুলাই) মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামে এমনই এক হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যের সাক্ষী হন স্থানীয় লোকজন।

বন্যাকবলিত বাড়ি থেকে শিশুকন্যা আসমাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাবা আব্দুর রহিম ঘরের বড় অ্যালুমিনিয়ামের পাতিলকেই অস্থায়ী ভেলার মতো ব্যবহার করেন।

আব্দুর রহিম গণমাধ্যমকে বলেন, হঠাৎ করে বাড়িতে পানি অনেক বেড়ে যায়। মেয়েটা ছোট, কোলে নিয়ে হাঁটলে পিছলে যাওয়ার ভয় ছিল। তাই ঘরের বড় হাঁড়িটার ভেতরে বসিয়ে মেয়েকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাই। বাবা হিসেবে তখন একটাই চিন্তা ছিল, মেয়েটাকে নিরাপদে পৌঁছে দিতে হবে। হাতে যা ছিল, তাই দিয়েই চেষ্টা করেছি।

স্থানীয় এক যুবক বলেন, আমরা অনেকেই তখন নিজেদের ঘরবাড়ি বাঁচাতে ব্যস্ত ছিলাম। হঠাৎ দেখি রহিম হাঁড়ির মধ্যে মেয়েকে বসিয়ে পানি পার হচ্ছেন। দৃশ্যটি দেখে সবাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। এটা সত্যিই একজন বাবার অসাধারণ উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয়।

টানা ভারী বৃষ্টি এবং ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারে মনু ও ধলাই নদীর একাধিক স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে জেলার রাজনগর, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া ও সদর উপজেলায় ভয়াবহ বন্যার দেখা দিয়েছে। ১৭ ইউনিয়নে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকটে দিন কাটাচ্ছেন এসব মানুষ।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, চার হাজার ১৭৫ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গতদের জন্য ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। ত্রাণ বিতরণও চলছে।

জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, জেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া, ত্রাণ বিতরণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।