প্রকাশিত: ২৫ জুলাই, ২০২৬ ২০:৩৫ (রবিবার)
সব দাবি মেনে নিল মোদি সরকার, আন্দোলন প্রত্যাহার ককরোচ পার্টির

ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার শিক্ষাথীদের সব দাবি মেনে নেওয়ায় চলমান আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সরকারের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তৃতীয় দফা বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ককরোচ জনতা পার্টির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন এবং শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানান। 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং এবং সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস।

আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, “সরকার তাদের আশ্বাস দিয়েছে, ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের করা পুলিশি মামলা প্রত্যাহার করা হবে, ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং মেডিকেল ভতি পরিক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা ছাত্রদের পরিবারকে নিয়ম ও বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। সরকার নিজেহদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে—এই ‘প্রত্যাশা’ নিয়েই সিজেপি আন্দোলন শেষ করেছে।”

তিনি আরও বলেন, ‘৩৬ দিনের বিক্ষোভের পর সরকার আমাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে। আমরা সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভস্থল থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের দাবিগুলো উগ্রপন্থী ছিল না, বরং মৌলিক ছিল এবং সরকার এখন তা মেনে নিয়েছে।’

সিজেপির আরেক মুখ্যপাত্র সৌরভ দাস বলেন, ‘আমরা নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দুর্নীতির কারণে চরম হতাশায় ভুগে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্রছাত্রীরা আত্মহত্যা করেছে তাদের পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলাম। সরকার এতে সম্মত হয়েছে এবং জানিয়েছে যে, যে সকল নিয়মকানুন অনুযায়ী অনুমতি আছে, সেই অনুযায়ী ওই পরিবারগুলোকে সম্মানসূচক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’

তিনি আরও জানান, ‘আমরা সরকারের সামনে একটি পাঁচ-দফা দাবি সনদ পেশ করেছি, যেখানে বৃহত্তর শিক্ষা ও পরীক্ষা সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। আমরা প্রায় চার সপ্তাহ পর সেই দাবি সনদ নিয়ে সরকারের সঙ্গে আবারও দেখা করব...’।

এদিকে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণার পরপরই পুলিশ লাউডস্পিকারে বিক্ষোভকারীদেরকে যন্তর মন্তর খালি করে দেওয়ার আহ্বান জানায়। ইতোমধ্যেই বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ গন্তব্যের দিকে যেতে দেখা গেছে। 

প্রসঙ্গত, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই বিক্ষোভের ফলে যন্তর মন্তরের আশেপাশের বাজারগুলোতে ভিড় কমে গিয়েছিল, যান চলাচল অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এবার আন্দোলন প্রত্যাহারের পর শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। 

সূত্র: এনডিটিভি