প্রকাশিত: ২৫ জুলাই, ২০২৬ ২০:৫২ (রবিবার)
অটিজম আক্রান্ত ছেলে যেন চিনতে পারে; তাই কখনও চুল বাঁধেন না কুকুরেয়া

ফুটবলাররা কেবল মাঠের ফুটবলের জন্যই নয়, বরং তাদের উদযাপন, খেলার ধরন কিংবা ভিন্নধর্মী হেয়ারস্টাইলের জন্যও সমর্থকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নেন। ডেভিড বেকহামের মোহাক, ২০০২ বিশ্বকাপে রোনালদো নাজারিওর বিখ্যাত ‘ক্রিসেন্ট’ কাট কিংবা ডেভিড লুইজের কোঁকড়ানো চুল- সবই ফুটবল ইতিহাসের অংশ। বর্তমান ফুটবল বিশ্বে তেমনই একটি সবচেয়ে পরিচিত হেয়ারস্টাইল হলো স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়ার লম্বা কোঁকড়ানো চুল।

তবে অন্যান্য দীর্ঘকেশী ফুটবলারদের মতো কুকুরেয়া খেলার সময় কখনোই চুল বাঁধেন না। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে স্পেনের শিরোপা জয়ের পর তাঁর উদযাপনের ভিডিও ভাইরাল হলে ভক্তদের মনে আবার প্রশ্ন জাগে, কেন কুকুরেয়া কখনোই খেলার সময় চুল বাঁধেন না?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক হৃদয়স্পর্শী কারণ। বহুল প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, কুকুরেয়া তাঁর লম্বা কোঁকড়ানো চুল খোলা রাখেন যাতে তাঁর অটিজম আক্রান্ত বড় ছেলে মাতেও টিভি বা গ্যালারিতে খেলা দেখার সময় হাজারো ফুটবলারের মাঝে সহজেই নিজের বাবাকে চিনে নিতে পারে।

যদিও কুকুরেয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়টি সরাসরি নিশ্চিত করেননি, তবে তাঁর পরিবার অতীতে মাতেও-র অটিজম শনাক্ত হওয়া নিয়ে বেশ কিছু আবেগঘন সাক্ষাৎকার দিয়েছিল, যা এই গল্পটিকে ভক্তদের কাছে অত্যন্ত অর্থবহ করে তুলেছে।

অ্যামাজন প্রাইমের ডকুমেন্টারিতে কুকুরেয়া এবং তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গী ক্লদিয়া রদ্রিগেজ তাঁদের পারিবারিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। ক্লদিয়া জানান, স্কুলে বা নার্সারিতে মাতেও যখন অন্য পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে কষ্ট পেত, তখন তিনি কত কেঁদেছিলেন।

বাবা হওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে আবেগপ্লুত কুকুরেয়া বলেন, "সন্তানকে লালন-পালনের এই দিকটা কেউ আপনাকে শেখাবে না। আপনাকেই তাকে বুঝতে শিখতে হবে।"

কুকুরেয়ার এই খোলামেলা আলোচনা ও সংগ্রাম ভক্তদের হৃদয় জয় করেছে। ২০২৬ সালের জুনে কুকুরেয়া রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন। রিয়াল মাদ্রিদ ফাউন্ডেশনসহ তাঁর সাবেক ক্লাব বার্সেলোনাও দীর্ঘদিন ধরে অটিজম আক্রান্ত শিশুদের খেলাধুলা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির জন্য নানা পদক্ষেপ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

আজকের ফুটবল সমর্থকদের কাছে মার্ক কুকুরেয়ার এই কোঁকড়ানো চুল কেবলই কোনো ফ্যাশন স্টেটমেন্ট বা স্টাইলের প্রতীক নয়; এটি একজন বাবার ভালোবাসা, সহমর্মিতা এবং লড়াইয়ের এক শক্তিশালী প্রতীক।