প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ২০:৫৪ (মঙ্গলবার)
সিলেটকে পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব নগরী গড়তে সিউকের কার্যক্রম শুরু: গৃহায়ণমন্ত্রী

সিলেটকে পরিকল্পিত, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিউকের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে সিউকের অস্থায়ী কার্যালয়ে নামফলক উন্মোচন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এবং প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, সিলেট অর্থনীতি, পর্যটন ও প্রাকৃতিক সম্পদের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হলেও অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সিলেটকে পরিকল্পিত, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতেই সিউকের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দ্রুত নগরায়ণের ফলে আবাসনের চাহিদা বাড়ছে। একই সঙ্গে কৃষিজমি রক্ষা, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যেই প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে।

জাকারিয়া তাহের আরও বলেন, গত ১৭ বছরে দেশে পরিকল্পিত নগরায়ণ হয়নি এবং ভবন নির্মাণের আইন ও নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়নও ছিল না। অপ্রয়োজনীয় ও অসম্পূর্ণ মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে জনগণের অর্থ অপচয় হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গৃহায়ণমন্ত্রী বলেন, সিউকের কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে সিলেট নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। এখন থেকে মাস্টার প্ল্যানের আওতায় জলাশয় ও পাহাড় রক্ষা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যানজট নিরসন এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে নগরায়ণ করা হবে।

সিউকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ কিংবা আইন লঙ্ঘন করে আবাসন গড়ে তোলার কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, এম এ মালিক ও এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান, পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম এবং জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী স্বাগত বক্তব্যে বলেন, সিলেটকে বাসযোগ্য, আধুনিক ও বিশ্বমানের পর্যটন নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে সিউক। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, পেশাজীবী সংগঠন, সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

সিউকের কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে সিলেটের নগর পরিকল্পনা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।