প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:১৬ (বৃহস্পতিবার)
সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসে আশাবাদী সাত্তার-সুরাইয়ার সন্তানরা

সিলেট নগরীর রায়নগরে আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন নিহত আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমের সন্তানরা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসের পর তারা সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী বলে জানিয়েছেন।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মহানগরীর জল্লারপার এলাকার খান হাউসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা শিখা ও তারানা সুলতানা শিমু বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, তাদের একটাই দাবি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা।

তারা জানান, মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তুলে ধরেন। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন বলে তারা দাবি করেন। পাশাপাশি তদন্ত দ্রুত সম্পন্নের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানান।

নিহত দম্পতির মেয়েরা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসের পর তারা এখন ন্যায়বিচার পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।

দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য সিলেটের সাংবাদিক ও সর্বস্তরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা। ন্যায়বিচারের দাবিতে সিলেটবাসীর সহযোগিতা ও সহমর্মিতার জন্যও ধন্যবাদ জানান। এ ছাড়া সিলেটের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, এজাহারে তারা নির্দিষ্ট করে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি। তবে নিহত আব্দুস সাত্তারের জায়গা-সংক্রান্ত বিরোধের একটি বিষয় পুলিশের নজরে আনা হয়েছে।

তাদের ভাষ্য, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ওই বিরোধের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থার।

তারা আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও যদি সুষ্ঠু বিচার না পান, তাহলে পরবর্তীতে আবার সংবাদ সম্মেলন করে সিলেটবাসীকে তাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট সকালে সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় নিজ বাসায় খুন হন আওয়ামী লীগ নেতা ও সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক এম এ সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম।

এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের দিন পুলিশ বাবুল মিয়া নামে এক রংমিস্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

এর আগে হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন পর, গত ১৭ আগস্ট নিজেদের বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে নিহত দম্পতির প্রবাসী ছেলে-মেয়েরা ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে পুলিশের তদন্ত সন্তোষজনক না হলে মামলাটি অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তরের দাবিও করেছিলেন তারা।