সিলেট সদর উপজেলার পীরের বাজারে জামেয়া তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশু শিক্ষার্থীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর অভিযুক্ত শিক্ষক ফয়জুল হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অভিযোগ ওঠার পরদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মাদ্রাসার প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। ভেতরে কোনো শিক্ষক কিংবা দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার সময় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টরা সেখানে না থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হয়। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুই শিশুর ওপর নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অনুসন্ধানের একপর্যায়ে ভুক্তভোগী দুই শিশুর একজনের বাবার সঙ্গে কথা হয়। পরিবারের অভিযোগ, মাদ্রাসায় থাকাকালে শিশুদের বিভিন্ন সময় শারীরিকভাবে আঘাত করা হতো। একইসঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশুদের সঙ্গে আরও নানা ধরনের অপকর্মের অভিযোগ করেন তারা।
পরিবারের ভাষ্য, প্রথমদিকে এসব বিষয়ে শিশুরা মুখ খুলতে ভয় পেত। একপর্যায়ে মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফিরে তারা সেখানে আর যেতে অস্বীকৃতি জানায়। অভিভাবকেরা কারণ জানতে চাইলে শিশুদের কাছ থেকে বেরিয়ে আসে নির্যাতনের অভিযোগ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী দুই শিশুর বয়স ৮ থেকে ১০ বছরের মধ্যে। পরিবারের অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক ফয়জুল হক মাদ্রাসা থেকে সরে গিয়ে জৈন্তাপুরে অবস্থান নেন। পরে সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে শাহপরান থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি জানতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের সঙ্গে কথা বলা হয়। পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ফয়জুল হক আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তবে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাদের, সেই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ ওঠার আগে ও পরে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছিল—এখন সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.