প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ ২০:৩৫
সিলেট অঞ্চলের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম প্রকৌশলী সংকটের কারণে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর উপজেলা প্রকৌশলীর পদ শূন্য রয়েছে বা শূন্য হওয়ার পথে। এতে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট পুনর্বাসন কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিশ্বনাথ, ফেঞ্চুগঞ্জ ও জকিগঞ্জ উপজেলায় কোনো নিয়মিত উপজেলা প্রকৌশলী কর্মরত নেই। এছাড়া কানাইঘাট ও ওসমানীনগরের প্রকৌশলীদের বদলির আদেশ হয়েছে। অন্যদিকে সিলেট সদর ও জৈন্তাপুর উপজেলার কর্মকর্তারা পদোন্নতি পাওয়ায় শিগগিরই নতুন কর্মস্থলে যোগদান করবেন। ফলে একসঙ্গে সাতটি উপজেলায় প্রকৌশলী সংকট তৈরি হওয়ায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
এই সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে চলমান পুনর্বাসন প্রকল্পগুলোতে। ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্টের সংস্কারকাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন অবকাঠামোর পুনর্নির্মাণ কাজও চলমান রয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রকৌশলী না থাকায় এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকির অভাবে অনেক ঠিকাদার কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছেন। কোথাও কোথাও কাজ আংশিক বন্ধও রয়েছে। প্রকৌশলীর অনুপস্থিতিতে নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
বর্তমানে শূন্য পদগুলোতে পার্শ্ববর্তী উপজেলার প্রকৌশলীদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের মতে, একজন কর্মকর্তার পক্ষে নিজের উপজেলার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অন্য উপজেলার উন্নয়ন প্রকল্প, ফাইল অনুমোদন, নকশা প্রণয়ন ও মাঠপর্যায়ের তদারকি কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা অত্যন্ত কঠিন। ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফাইল দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকছে এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ও অন্যান্য বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে এলজিইডি সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন খান বলেন, কয়েকটি উপজেলায় প্রকৌশলীর পদ শূন্য থাকা এবং বদলি ও পদোন্নতিজনিত কারণে কাজের গতিতে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ অবকাঠামোর পুনর্বাসন কাজ দ্রুত শেষ করতে জনবল সংকট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি জানান, অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে জনভোগান্তি কম হয়। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য দ্রুত শূন্য পদগুলোতে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ প্রয়োজন। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে সিলেটের সচেতন নাগরিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উপজেলা প্রকৌশলী নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, বর্ষা মৌসুমের আগে চলমান পুনর্বাসন ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করতে জরুরি ভিত্তিতে দক্ষ প্রকৌশলী পদায়ন না হলে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনসেবা কার্যক্রম আরও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন