সিলেট

সিলেটে শাপালা বিলের চারপাশে হচ্ছে ওয়াকওয়ে, কটেজ ও বিশ্রামগার

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬ ২১:২৬

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ডিবির হাওর এলাকার অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ লাল শাপলা বিলের সৌন্দর্যবর্ধন ও পর্যটকদের সুবিধার্থে বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিলের চারপাশে নির্মাণ করা হবে ওয়াকওয়ে। পাশাপাশি পর্যটকদের রাত্রিযাপনের জন্য তৈরি করা হবে ছোট ছোট কটেজ ও বিশ্রামাগার।

এ তথ্য জানিয়েছেন এলাকার সংসদ সদস্য এবং শ্রম, কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে শুক্রবার (৮ মে) স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

জৈন্তাপুরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ডিবির হাওরের বিলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এখানে জৈন্তরাজ্যের রাজা রাম সিংহের স্মৃতিবিজড়িত ডিবির হাওর, ইয়াম, হরফকাটা কেন্দ্রী বিলসহ রয়েছে চারটি বিল। এসব বিলকে ঘিরেই এলাকাটি ‘ডিবির হাওর’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

শুষ্ক মৌসুমে বিলগুলো লাল শাপলার রাজ্যে পরিণত হয়। অসংখ্য লাল শাপলায় ভরে ওঠা এই বিল প্রতিবছর হাজারো পর্যটককে আকৃষ্ট করে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে পর্যটকদের নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

শুক্রবার (৮ মে) নিউইয়র্কের একটি হোটেলে সিলেট-৪ আসনের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “শাপলা বিলের চারপাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণের পাশাপাশি ছোট কটেজ ও বিশ্রামাগার তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এতে পর্যটকরা সেখানে রাতযাপন করে ভোরের মনোমুগ্ধকর শাপলা বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।”

তিনি আরও বলেন, বিলের পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া চেঙেরখালের তীরে রাতারগুলের সংযোগ সড়কের ভাঙা অংশ সংস্কারের কাজও শুরু হয়েছে এবং দ্রুত তা শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

এ সময় তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, কোম্পানীগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সংস্কার, বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, বেঞ্চ-ডেস্ক সরবরাহসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে কাজ শুরু হয়েছে।

এছাড়া হরিপুর বাজার, দরবস্ত বাজার, রামধা বাজারসহ আরও একটি বাজারে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার ও আধুনিকায়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

নির্বাচনী প্রচারণার সময়ের স্মৃতিচারণ করে মন্ত্রী বলেন, “প্রচারণাকালে আমি যত ‘হাকম’ (বাঁশ বা কাঠের সেতু) পার হয়েছি, তখনই বলেছিলাম—১২ তারিখের পর কাজ হবে আমার। আমি সেই কাজ শুরু করেছি। জরিপ সম্পন্ন হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৬৬ কিলোমিটার আরসিসি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে।”

তিনি বলেন, যেখানে যেখানে সেতু ও কালভার্ট প্রয়োজন হবে, সেখানে সেগুলো নির্মাণ করা হবে। চলতি বছর অন্তত ১০টি সেতু বা কালভার্ট নির্মাণ সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন


বিজ্ঞাপন