সিলেট

সিলেটে সময় টেলিভিশনের সাংবাদিকের স্মার্টফোন চুরির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুই চোর গ্রেফতার

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬ ২১:৫৭

সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের এক ঝটিকা অভিযানে একটি চুরি মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে আসামিদের হেফাজত থেকে চোরাইকৃত একটি মূল্যবান স্মার্টফোন এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত নথিপত্রসহ একটি মানিব্যাগ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুন ২০২৬ খ্রি. সকাল আনুমানিক ০৮:৪০ ঘটিকায় কোতোয়ালী মডেল থানাধীন মির্জাজাঙ্গাল মনিপুরী রাজবাড়ী এলাকার ২৮ নম্বর বাসার তৃতীয় তলায় একটি চুরির ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা ঘরে প্রবেশ করে একটি ‘Redmi Note 12 Pro’ মডেলের মোবাইল ফোন এবং একটি মানিব্যাগ চুরি করে নিয়ে যায়। ওই মানিব্যাগে ভুক্তভোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), ড্রাইভিং লাইসেন্স, মোটরবাইকের স্মার্ট রেজিস্ট্রেশন কার্ড, ট্যাক্স টোকেন এবং স্টুডেন্ট আইডি কার্ডসহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাগজপত্র সংরক্ষিত ছিল।

এই ঘটনার পর ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং-০২, তারিখ: ০২/০৬/২০২৬ খ্রি., ধারা-৩৮০ পেনাল কোড)।

মামলা রুজুর পরপরই কোতোয়ালী থানার এসআই (নিরস্ত্র) মাহবুবুল আলম সঙ্গীয় ফোর্সসহ চোর চক্রটিকে ধরতে মাঠে নামেন। পুলিশ দ্রুততার সাথে ঘটনার আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তা নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে। সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে ২ জুন ২০২৬ খ্রি. রাত আনুমানিক ০১:০০ ঘটিকায় কোতোয়ালী থানাধীন মজুমদার পাড়া এলাকার লাকী রেস্টুরেন্ট সংলগ্ন আহাদ মিয়ার কলোনিতে বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে প্রথম আসামি পারভেজ আহমদ (২০)-কে গ্রেফতার করা হয়। সে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ থানার নৌয়াপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম প্রকাশ নুর মিয়ার ছেলে (বর্তমান ঠিকানা: বন কলাপাড়া, জিন্নত মিয়ার বাড়ীর ভাড়াটিয়া, থানা-এয়ারপোর্ট, সিলেট)। গ্রেফতারের পর পারভেজের তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে চুরি হওয়া মানিব্যাগ ও সব গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত পারভেজ আহমদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত আনুমানিক ০১:২৫ ঘটিকায় লামাবাজার পয়েন্ট এলাকায় দ্বিতীয় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। সেখান থেকে চুরির সাথে জড়িত অপর মূল হোতা আসামী মোঃ আব্দুর শুক্কুর দারা মিয়া (২৭)-কে গ্রেফতার করা হয়। সে গোলাপগঞ্জের ঢাকা দক্ষিণ এলাকার নিমার আলী ও মাতা-শাবানা বেগমের ছেলে (বর্তমান ঠিকানা: ঘাসিটুলা মতিনের কলোনী, থানা-কোতোয়ালী, সিলেট)। পরে তার কাছ থেকে ভুক্তভোগীর চোরাইকৃত ‘Redmi Note 12 Pro’ মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।

কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলা হওয়ার পর অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার এবং চোরাই মালপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত উভয় আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মহানগরে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধ দমনে পুলিশের এই ধরনের তাৎক্ষণিক ও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন


বিজ্ঞাপন