বিনোদন

কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬ ২৩:২৮

নেত্রকোনায় জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে  ১৫  বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলাটি করেন।

অভিযুক্ত রিপন মিয়া নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের মঞ্জিল মিয়ার ছেলে। তিনি পৈত্রিক গ্রাম ছেড়ে কয়েক বছর আছে পার্শ্ববর্তী নন্দুরা গ্রামে বাড়ি করে বসবাস করছিলেন। ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। 

ভুক্তভোগীর বাবার অভিযোগ, গত শনিবার রাত আটটার দিকে তাদের বাড়িতে যান রিপন। তখন ওই স্কুলছাত্রী বাড়ির উঠানে রান্না করছিল। তার বাবা স্থানীয় বাজারে চায়ের দোকানে ও মা বাইরে কাজে ছিলেন। এ সুযোগে ওই ছাত্রীকে জোর করে বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করেন রিপন। পরে মেয়েটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে রিপন পালিয়ে যান।

অভিযোগে আরও বলা হয়, কন্টেন্ট বানিয়ে জনপ্রিয়তা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রিপন আগে থেকেই কিশোরীটিকে উত্ত্যক্ত করতেন। লোকলজ্জার ভয়ে পরিবারটি প্রথমে বিষয়টি প্রকাশ করেনি। পরে ঘটনা জানাজানি হলে সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে স্থানীয় একটি বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সালিশ বসে।


সালিশে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে ওই বৈঠক হয়। সেখানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে রিপন অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা চান। পরে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে রিপনের বাড়িটি ভুক্তভোগীকে লিখে দিতে বলা হয়। পাশাপাশি রিপন মিয়াকে এলাকাছাড়া করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সালিশের কয়েকটি ভিডিও মঙ্গলবার সকালে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে চারদিকে হইচই শুরু হয়। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযোগ স্বীকার করে উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চাইছেন রিপন। একপর্যায়ে রিপন মিয়াকে বলতে শোনা যায় -‘ভুল করলেও করছি, না করলেও করছি। আমি, আফনেরার লগে থাহন লাগবো...! ভুল তো মানুষ করেই, আমি একটা ভুল কইরাইলছি।’ কথার এক পর্যায়ে তিনি মাফ চাওয়ার জন্য ফজলুর রহমানের পায়ে ধরেন।

ভিডিও প্রকাশের পর মঙ্গলবার সকাল থেকে আত্মগোপনে চলে যায় রিপন মিয়া। ঘটনা জানার পর নেত্রকোনা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলেন। পাশাপাশি সালিসের লোকজনসহ এলাকাবাসীর সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। পরে রাতে ভুক্তভোগীর বাবা নেত্রকোনা মডেল থানায় রিপনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে জানতে রিপন মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, ‘মেয়েটি দরিদ্র পরিবারের। বিষয়টি জানার পর মেয়েটির পরিবার ও গ্রামের লোকজন আমাদের কাছে বিচার নিয়ে আসে। পরিবারের মামলা চালানোর সামর্থ্যও নেই। পরে আমরা এলাকাবাসী মিলে সালিশে বসেছিলাম। তারপর বলেছি আইনি পদক্ষেপ নিতে। সালিশের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। পরে পুলিশ এ বিষয়ে কথা বলেছে।

সালিশে উপস্থিত থাকা স্থানীয় মাতব্বর মুখলেছুর রহমান দৌলত বলেন, ওই সালিশে আমি তেমন কিছু বলিনি। রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজের অভিযোগে সালিশ বসেছিল। রিপন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। ভুক্তভোগীর পরিবার খুবই দরিদ্র। তাই ওই কিশোরীর ভবিষ্যৎ বিবেচনায় পাঁচ লাখ টাকা তাকে দিতে বলা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ওই টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় রিপনের বাড়ি ওই কিশোরীকে লিখে দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়।

এদিকে রিপন মিয়ার স্ত্রী চম্পা আক্তার বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমি বিস্তারিত জানি না। মানুষের মুখে বিষয়টি শুনেছি। আমার স্বামী নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার ওপর অন্যায়ভাবে অভিযোগ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। ওই ছাত্রীর আগে থেকেই তাদের পরিবারের সঙ্গে যাতায়াত ছিল।’

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, ঘটনা জানার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতেই ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন। যদিও ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর রিপন আত্মগোপনে চলে গেছেন। তবে তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।

পেশায় কাঠমিস্ত্রি রিপন মিয়া ২০১৬ সাল থেকে ফেসবুকে ভিডিও তৈরি করছেন। তার ‘হাই আই এম রিপন ভিডিও’ ও ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’— সংলাপ সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পায়। ২০১৯ সালে ‘রিপন মিয়া’ নামে ফেসবুকে একটি পেজ খোলেন। পেজটিতে বর্তমানে অনুসারী ১৯ লাখ।

বিনোদন থেকে আরো পড়ুন