আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রকৌশলী ও গবেষণাসংশ্লিষ্ট উচ্চ দক্ষতার পেশাজীবীদের যুক্তরাজ্যে কাজের সুযোগ দেওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা। দেশটির বর্তমান অভিবাসন বিধিমালা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন পাওয়া গবেষকেরা প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করলে মাত্র তিন বছর পর যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন।
যুক্তরাজ্য সরকারের হালনাগাদ নিয়ম অনুযায়ী, রয়্যাল সোসাইটি, ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি, রয়্যাল অ্যাকাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশনের অনুমোদনের ভিত্তিতে গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য তিন বছরের স্থায়ী বসবাসের পথ রয়েছে। তবে শুধু তিন বছর যুক্তরাজ্যে থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায় না। আবেদনকারীকে ধারাবাহিক বসবাসসহ অন্যান্য নির্ধারিত যোগ্যতাও পূরণ করতে হয়।
গবেষকদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ হলো ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন বা ইউকেআরআইয়ের অনুমোদিত গবেষণা অনুদান বা পুরস্কারের ভিত্তিতে আবেদন। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে ইউকেআরআই অনুমোদিত কোনো যুক্তরাজ্যের গবেষণা প্রতিষ্ঠানে চাকরি বা গবেষণার জন্য যুক্ত থাকতে হবে এবং তার গবেষণার অর্থায়নও অনুমোদিত কোনো তহবিলদাতার কাছ থেকে আসতে হবে।
এই পথে আবেদনের জন্য সংশ্লিষ্ট গবেষণা অনুদান বা পুরস্কারের মূল্য কমপক্ষে ৩০ হাজার পাউন্ড হতে হবে এবং সেটির মেয়াদ অন্তত দুই বছর হতে হবে। একই সঙ্গে আবেদনকারীর চাকরির চুক্তি বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হোস্টিং চুক্তির অন্তত এক বছর বাকি থাকতে হবে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, আবেদনকারীকে তার মোট কর্মসময়ের অন্তত ৫০ শতাংশ ওই গবেষণা অনুদানের আওতাধীন কাজে ব্যয় করতে হবে। প্রধান গবেষক বা সহগবেষকের ক্ষেত্রে একাধিক যোগ্য গবেষণা অনুদানে কাজের সময় একত্র করে এই ৫০ শতাংশের শর্ত পূরণ করার সুযোগ রয়েছে।
গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসার বড় সুবিধাগুলোর একটি হচ্ছে কর্মক্ষেত্রের স্বাধীনতা। এটি সাধারণ স্পনসরনির্ভর ওয়ার্ক ভিসার মতো নির্দিষ্ট একটি চাকরির সঙ্গে একইভাবে আবদ্ধ নয়। ভিসাধারীরা নির্ধারিত নিয়মের মধ্যে চাকরি করতে, চাকরি পরিবর্তন করতে কিংবা স্বনিযুক্ত হিসেবে কাজ করতে পারেন। ফলে গবেষক ও উদ্ভাবকদের ক্যারিয়ার পরিচালনায় তুলনামূলক বেশি স্বাধীনতা থাকে।
স্থায়ী বসবাসের ক্ষেত্রে গবেষকদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রয়েছে। রয়্যাল সোসাইটি, ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি, রয়্যাল অ্যাকাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা ইউকেআরআইয়ের অনুমোদন পাওয়া গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসাধারী গবেষকরা গবেষণার কাজে যুক্তরাজ্যের বাইরে যে সময় কাটান, নির্দিষ্ট শর্তে সেই গবেষণাসংশ্লিষ্ট অনুপস্থিতি ধারাবাহিক বসবাসের হিসাবকে বাধাগ্রস্ত করে না।
তবে তিন বছর পর স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার সময় শুধু ভিসার মেয়াদ পূরণ করাই যথেষ্ট নয়। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে আয় করার প্রমাণসহ প্রযোজ্য অন্যান্য অভিবাসন শর্ত পূরণ করতে হয়। বর্তমান নিয়মে ইংরেজি ভাষার যোগ্যতা এবং যুক্তরাজ্যের জীবন ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত নির্ধারিত পরীক্ষার শর্তও রয়েছে।
ফলে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী ও গবেষকদের জন্য গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা শুধু যুক্তরাজ্যে গবেষণা বা চাকরির সুযোগ নয়, যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য তুলনামূলক দ্রুত স্থায়ী বসবাসের পথও তৈরি করছে। বিশেষ করে ইউকেআরআই অনুমোদিত গবেষণা অনুদান এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত গবেষকদের জন্য এই ব্যবস্থা যুক্তরাজ্যে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ক্যারিয়ার গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক থেকে আরো পড়ুন