প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৩৫
সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগানের নির্জন টিলায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা এক নারীর মৃতদেহের রহস্য উন্মোচন করেছে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে শনাক্ত হওয়া ওই নারী সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার মওলারপাড় গ্রামের মৃত মাহতাব মিয়ার কন্যা রাবেয়া বেগম (২৫)।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৪ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে। লাক্কাতুরা চা বাগানের ভাইগণ নামক টিলার ঝোপের মধ্যে আংশিক পচনধরা অবস্থায় রাবেয়ার মৃতদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরনে ছিল নতুন লাল রঙের শাড়ি, হালকা গোলাপি বোরকা ও গলায় হলুদ ওড়না। মৃতদেহের পাশে পাওয়া যায় একটি লেডিস ব্যাগ, যার মধ্যে ছিল কিছু কাপড় ও একটি মেমোরি কার্ড।
পিবিআই ও সিআইডি কর্তৃক আঙুলের ছাপ নেওয়ার পরও পচনের কারণে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে মেমোরি কার্ডে থাকা কথোপকথনের অডিও বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বরের কল রেকর্ড (সিডিআর) পরীক্ষা করে পুলিশ পরিচয় শনাক্তে সক্ষম হয়।
তদন্তে উঠে আসে নিহতের স্বামী সুনামগঞ্জ সদর থানার রাঙ্গারচর গ্রামের ওমান ফেরত ফারুক আহমেদের নাম। পরবর্তীতে ১৭ অক্টোবর দোয়ারাবাজারের রাঙ্গারচর গ্রামে অভিযান চালিয়ে ফারুককে গ্রেফতার করে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক হত্যার বিষয়টি অস্বীকার করলেও তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের পর স্বীকার করে যে, স্ত্রী রাবেয়ার পূর্বের বিয়ে গোপন করা ও অন্য পুরুষের সঙ্গে পরকীয়ার কারণে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
ফারুক জানায়, ১৩ অক্টোবর স্ত্রীকে নিয়ে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সিলেটে আসে। পরে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে স্ত্রীকে নিয়ে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উত্তর-পূর্ব দিকের নির্জন টিলায় যায়। সেখানে তার ফুফাতো ভাই আলামিনের সহায়তায় রাবেয়াকে গলা টিপে হত্যা করে।
ভিকটিমের চাচা রিপন মিয়া এ ঘটনায় ফারুক ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে এয়ারপোর্ট থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৭, তারিখ ১৭/১০/২৫, ধারা ৩০২/৩৪ দণ্ডবিধি)।
১৮ অক্টোবর আদালতে উপস্থাপন করলে ফারুক ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন