সিলেট বিভাগে হাম সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে আরও ১৭ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে বিভাগের ১৩টি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে মোট ৭০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইতোমধ্যে কয়েকজন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব পরীক্ষায় আরও ৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ৩০ জনের শরীরে ল্যাবের মাধ্যমে এই রোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে সিলেটে পরীক্ষার সুযোগ না থাকায় রোগীদের নমুনা ঢাকায় পাঠিয়ে পরীক্ষা করতে হচ্ছে, ফলে সব রোগীর পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।
বর্তমানে উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের হামের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর অবস্থার রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।
ল্যাব পরীক্ষায় শনাক্ত ৩০ জনের মধ্যে হবিগঞ্জে ৫ জন, মৌলভীবাজারে ৮ জন, সুনামগঞ্জে ৭ জন এবং সিলেটে ১০ জন রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৬ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল-এ, ৩ জন লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ২ জন মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে এবং একজন করে নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশ্বনাথ, ফেঞ্চুগঞ্জ, শান্তিগঞ্জ ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সবমিলিয়ে বর্তমানে ৭০ জন রোগীর মধ্যে ৪২ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, ১২ জন মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে এবং বাকি রোগীরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ২ জন করে এবং অন্যান্য কয়েকটি হাসপাতালে একজন করে রোগী ভর্তি আছেন।
সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ২৬ মার্চ থেকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের একটি ইউনিটকে হামের রোগীদের জন্য বিশেষভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি।
স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানায়, বছরের শুরুতে sporadicভাবে সংক্রমণ দেখা গেলেও মার্চের শেষ দিকে এসে তা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসোলেশন ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং সন্দেহজনক রোগীদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন