সিলেট

পাহাড়ি ঢলে ৩০ গ্রাম প্লাবিত, ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৩০

মৌলভীবাজারে পাহাড়ি ঢলে গোগালিছড়া ও বালিয়াছড়ার বাঁধ ভেঙে প্রায় ৩০ গ্রাম প্লাবিত ও ৬শ হেক্টর বোরো ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত থেকে মুষলদারে বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ উপজেলার মানুষের এসব ক্ষতি হয়েছে।

কুলাউড়া উপজেলার গোগালি ছড়া বাঁধ ভাঙনে কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের বাগাজুরা, হাসনপুর, শ্রীপুর, করেরগ্রাম, মিনারমহল, সৈয়দপুর,গাজিপুর, পুরন্দপুর,হরিপুর, বড়কাপন এবং জয়চন্ডী ইউনিয়নের দানাপুর, কামারকান্দি লামাগাঁও গ্রামে ১শ হেক্টর আউশক্ষেত, বোরো ধান, আউশের বীজ তলা, শতাধিক পুকুর তলিয়ে মাছ বের হয়ে গেছে। কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহি উদ্দিন সদর ও জয়চন্ডি ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

অপরদিকে, কমলগঞ্জ উপজেলার উত্তর বালিগাঁও গ্রামে বালিয়াছড়ার পানি প্রবেশ করে তলিয়ে গেছে প্রায় ৫শ হেক্টর বোরো ফসলের মাঠ। ছড়ার একটি স্থানে বাঁধ ভেঙে যাওয়া এবং আরও তিনটি পয়েন্ট দিয়ে পানি উপচে পড়ার ফলে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ধান কাটার আগ মুহূর্তে চোখের সামনে সোনালি ফসল তলিয়ে যেতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন এলাকার শত শত কৃষক।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বালিয়াছড়ার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির তীব্র চাপে ছড়ার একটি অংশ ভেঙে পানি ঢুকছে ফসলি জমিতে। এছাড়া পাড় নিচু হওয়ায় ৩টি স্থান দিয়ে পানি উপচে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা এখন প্লাবিত। বর্তমানে উত্তর বালিগাঁও গ্রামের অধিকাংশ জমি পানির নিচে রয়েছে।

​ক্ষতিগ্রস্ত রাম চন্দ্র পাল, জমির মিয়া, রবি দত্ত জানান, হাড়ভাঙা খাটুনি আর চড়া সুদে ঋণ নিয়ে তারা এবার চাষাবাদ করেছিলেন। এখন ফসল হারিয়ে তারা নিঃস্ব। অনেক কৃষককে বুক সমান পানিতে নেমে আধা-পাকা ধান কাটার নিরর্থক চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

কমলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোছা. আমিনা বেগম জানান, ছড়াটি দীর্ঘদিন খনন না করায় তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে, যা এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ। আমরা বাঁধটি বারবার মেরামত করলেও ছড়া খনন না হওয়ায় পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না, ফলে প্রতি বছরই এটি ভেঙে যায়। এই বছর আমরা কমলগঞ্জ ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বালিয়াছড়া খননের একটি প্রকল্প উপজেলা পরিষদে পাঠিয়েছি। এটি বাস্তবায়ন হলে কৃষকরা স্থায়ী মুক্তি পাবে।

এব্যাপারে কুলাউড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নাদিম মাহমুদ রাজু জানান, বাঁধ ভেঙে সদর ইউনিয়নের গাজিপুর গ্রামে ২০ বিঘা বোরো ধান নষ্ট হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত ইউপ চেয়ারম্যান আব্দুশ শহীদ জানান, গোগালি ছড়া ভাঙনে এ ইউনিয়ন কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে মৎস্য খামারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তা অশ্বিনী কুমার সিংহ বলেন, পাহাড়ি ঢলে বালিয়াছড়ার পানি উপচে ও বাঁধ ভেঙে প্রায় ১ হাজার হেক্টর বোরো ধান বর্তমানে প্লাবিত হয়েছে। ফসলের এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহি উদ্দিন জানান, সদর ও জয়চন্ডি ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। পাহাড়ি ঢলে এ উপজেলার ১০-১৫টি গ্রামে পানি প্রবেশ করে। কয়েক জায়গায় রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আকষ্মিক ঢলে পানিবন্দি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা দেওয়ার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বলা হয়েছে।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন