সিলেট

সিলেটে হামে আরও এক মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৬৩

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬ ২০:৪০

সিলেটে হামের প্রাদুর্ভাব ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। শিশুদের পাশাপাশি কিশোর, তরুণ ও বয়স্কদের মধ্যেও রোগটির সংক্রমণ বাড়তে থাকায় নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্যখাতে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ জনে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, একই সময়ে নতুন করে ৫৭ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে সিলেট বিভাগের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৭৬ জন রোগী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৬২ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। এর সঙ্গে সম্প্রতি ২২ বছর বয়সী শিক্ষানবীশ নার্স জেরিন সুলতানার মৃত্যুর ঘটনা যোগ হয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ১৬৫ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন চারজন।

শিশু ছাড়িয়ে বয়স্কদের মধ্যেও সংক্রমণ

সিলেটে হাম চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, শিশুদের পাশাপাশি বয়স্ক রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের কেউ স্যালাইন নিচ্ছেন, কেউ চিকিৎসকদের পরামর্শে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসক ও নার্সরা ব্যস্ত সময় পার করছেন রোগীদের সেবায়।

হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. এস এম সাজ্জাদুল হক বলেন, প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাতজন, কখনও ১০ থেকে ১২ জন পর্যন্ত বয়স্ক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। শুরুতে এত সংখ্যক বয়স্ক মানুষ হাম আক্রান্ত হবেন বলে ধারণা করা হয়নি।

তিনি বলেন, “হামকে সাধারণত শিশুদের রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু বর্তমানে ১৫ থেকে ২২ বছর বয়সী রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আক্রান্তদের টিকা গ্রহণের ইতিহাস এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে আমরা কাজ করছি।”

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই হামের বিস্তার রোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায়। একই সঙ্গে আক্রান্তদের আলাদা রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন


বিজ্ঞাপন