সিলেট

হবিগঞ্জে চেয়ারম্যানের চেয়ার নিয়ে রণক্ষেত্র, ওসিসহ আহত অর্ধশত

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ ২০:২৯

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ৭ নম্বর বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে বর্তমান চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে বানিয়াচং থানার ওসিসহ অন্তত শতাধিক নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন।

সোমবার (৮ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার কালাইনজুড়া গ্রামে অবস্থিত বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদ আহমদ গ্রেপ্তার হলে প্যানেল চেয়ারম্যান ও যুবদল নেতা মিজানুর রহমান কপিল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

দীর্ঘদিন কারাভোগের পর জাতীয় নির্বাচনের পরে জামিনে মুক্তি পান ফরিদ আহমদ। এরপর তিনি পুনরায় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের উদ্যোগ নিলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কপিল আপত্তি জানান। বিষয়টি আদালতে গড়ালে হাইকোর্টের রায়ে ফরিদ আহমদ চেয়ারম্যান পদ ফিরে পান। পরে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তাকে দায়িত্ব গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়।

সোমবার সকালে সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ উপস্থিত হলে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় ফরিদ আহমদ ও মিজানুর রহমান কপিলের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ফরিদ আহমদকে কপিলের সমর্থকরা অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে।

খবর ছড়িয়ে পড়লে ফরিদের সমর্থনে নোয়াগাঁও, কদুপুরসহ কয়েকটি গ্রামের লোকজন এবং কপিলের পক্ষে হলদারপুর গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

খবর পেয়ে বানিয়াচং থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩ রাউন্ড টিয়ারশেল ও ৫টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে বানিয়াচং থানার ওসি শেখ নাজমুল হকসহ উভয় পক্ষের শতাধিক লোকজন আহত হন।

গুরুতর আহত কয়েকজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আহতদের হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল ও নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বানিয়াচং থানার ওসি শেখ নাজমুল হক জানান, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে তিনিও আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. রাশেদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

 

সিলেট থেকে আরো পড়ুন