দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা ইসলামের আদর্শে পরিচালিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলামের বাংলাদেশ। ইসলামের নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে ইনসাফ, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় সীরাত উদযাপন কমিটির আয়োজনে রাষ্ট্র সংস্কারে রাসুল (সা.)-এর নীতি ও আদর্শ শীর্ষক সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইসলাম শান্তি, ঐক্য ও সমন্বয়ের ধর্ম। কুরআনের শাসন যখন ও যেখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেখানেই মানুষ শান্তি ও শৃঙ্খলা পেয়েছে।
ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট দলের সম্পত্তি নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ একটি সংক্রামক ব্যাধি; যার ভেতরে এটি প্রবেশ করে, সে-ই ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠে। ফ্যাসিবাদের পথে বাংলাদেশের মানুষ আর কাউকে চলতে দেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালে যারা জেগে উঠেছিল, তারা সবাই মরে যায়নি। অন্যায় ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ বারবার গর্জে উঠবে। ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াই চলবে।
জুলাই জাদুঘর প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, পতিত সরকারের নির্যাতন-নিপীড়নের বাস্তব চিত্রের তুলনায় সেখানে অনেক কম তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ একটি দেশকে খুশি করতে নির্যাতন ও জুলুমের অনেক তথ্য গায়েব করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি ও উপাদানও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন জামায়াতের আমির।
তিনি বলেন, সীমান্তে ফেলানী হত্যার পর কাঁটাতারে ঝুলে থাকা ছবি এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেনের ওপর রিমান্ডে চালানো নির্যাতনের ছবি জুলাই জাদুঘর থেকে গায়েব করা হয়েছে।
ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতিহাস বিকৃত করার অভিযোগ তুললেও তারাই আবার ইতিহাস বিকৃত করেছে বলে মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে কেউ যেন ফাইনাল যুদ্ধ মনে না করে। চব্বিশের আন্দোলন ছিল শুধু একটি রিহার্সেল। ওই আন্দোলনে জেগে ওঠা মুক্তিকামী মানুষ এখনো দেশের পরিস্থিতি সজাগ দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করছে।
সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, মহানবী (সা.)-এর নীতি ও আদর্শ জনগণের মধ্যে পৌঁছে দিতে হবে। নৈতিক আদর্শ গঠনের জন্য ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা পর্যন্ত মহানবী (সা.)-এর নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আ ন ম রফিকুর রহমান মাদানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি এবং মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি।
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় জীবনে রাসুল (সা.)-এর নীতি ও আদর্শকে গ্রহণ করতে হবে। অন্যদিকে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারে মহানবী (সা.)-এর নীতি ও আদর্শ বর্তমান সময়ে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি দাবি করেন, ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র ছাড়া মানুষের অধিকার পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় সীরাত উদযাপন কমিটির সমন্বয়ক ড. আব্দুল মান্নান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ক ম আবদুল কাদের। প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামসুল আলম, তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ড. খলিলুর রহমান মাদানীসহ অন্যরা।
সেমিনার শেষে সীরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় দুই গ্রুপের ২০ বিজয়ীর মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। জাতীয় সীরাত উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে দুই গ্রুপের প্রথম বিজয়ীকে নগদ ৫০ হাজার টাকা, সম্মাননা ক্রেস্ট ও ইসলামিক বই দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের প্রত্যেককে নগদ ৫০ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন।
রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন