জাতীয় সরকারের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি, তা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কতটুকু?
মির্জা ফখরুল: এটা ডিপেন্ড করবে নির্বাচনের পর নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মতামতের ওপর, সেই ভিত্তিতেই হবে। তবে আমরা স্টিল স্টিক টু আওয়ার কমিটমেন্ট।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে, আমরা সবাই জানি। আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন?
মির্জা ফখরুল: এটা আমি ঠিক এই মুহূর্তে মন্তব্য করতে রাজি নই। কারণ এই দলটির ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আছে, সেটা উইথড্র হলে যে সিচুয়েশন তৈরি হবে, সেটার উপর নির্ভর করবে। তবে আমি মনে করি, উইথড্র হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
আওয়ামী লীগের বিচার প্রক্রিয়া এবং আগামীর রাজনীতি সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কী?
মির্জা ফখরুল: আওয়ামী লীগ তো নিজেরাই নিজেদের বিলীন করে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে তাদের আর কোনো জায়গা আছে বলে আমি মনে করি না। সুতরাং তাদের ফের রাজনীতিতে ফিরে আসা সহজ হবে না। যে রাজনৈতিক দল গণহত্যার সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আসতেই হবে, সিরিয়াসলি বিচার হতে হবে।
আলোচনা রয়েছে আওয়ামী লীগের বিচার প্রক্রিয়া ধীর গতিতে এগোচ্ছে, আপনার কি মনে হয়?
মির্জা ফখরুল: না, না, সেটা আমি মনে করছি না। বরং এর মধ্যেই বর্তমান সরকারের পক্ষে যতটা সম্ভব, সেটা তারা করছে। ট্রাইব্যুনালও বাড়িয়েছে, ফলে বিচার কাজ দ্রুতই এগোচ্ছে। সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে, বিচার কাজ সম্ভবত শেষের দিকে চলে এসেছে।
আপনারা কূটনীতিকদের সঙ্গে ঘন ঘন বৈঠক করছেন। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে বিএনপির কাছে কী ধরনের বার্তা আসছে?
মির্জা ফখরুল: ওরা সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। তারা চায় যে বিএনপি এই নির্বাচনে সম্পূর্ণভাবে পার্টিসিপেট করবে। বিএনপি যে কমিটমেন্টগুলো দিয়েছে, তারা দেখতে চায় গণতন্ত্রকে চর্চা করার ক্ষেত্রে সেগুলো কতটা উপযোগী।
বিশেষ করে তাদের কতগুলো জায়গা আছে, যেমন পশ্চিমা বিশ্ব নারী পার্টিসিপেশনটা বেশি দেখতে চায়। একইসঙ্গে তারা মানবাধিকার প্রশ্নগুলোকে বড় করে দেখে। শ্রমের অধিকার নিশ্চিত হওয়া প্রশ্নে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তাছাড়া আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো হিউম্যান রাইটসকে বড় করে দেখে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারত একটি প্রাসঙ্গিক ইস্যু, এই মুহূর্তে ভারতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক কেমন?
মির্জা ফখরুল: ভারতের সঙ্গে বরাবরই আমরা চেয়েছি একটা ফাংশনাল রিলেশনশিপ। সৎ প্রতিবেশীর মতো একটা আচরণ ভারত করবে। অর্থাৎ আমাদের সঙ্গে যে সমস্যাগুলো আছে, সেই সমস্যাগুলো সমাধানে তারা পজিটিভভাবে পদক্ষেপ নেবে। যেমন পানি সমস্যা আছে, এটার সমাধান হয়নি। বর্ডারে যে হত্যা, এটা বন্ধ করার জন্য আমাদের অনেক বেশি সচেষ্ট থাকতে হবে। সেইসঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের ট্রেডিং ব্যালেন্স, সেটাকে দূর করার জন্য আমরা অবশ্যই চিন্তা করব।
সমস্যা হচ্ছে ভারতের হস্তক্ষেপ। ভারত যেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ না করে, সেটাই আমরা চাইব।
জনগণের ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের ওপর বাইরের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে বিএনপি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কি না?
মির্জা ফখরুল: আমরা যদি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যাই, তখন আমাদের দায়িত্ব হয়ে দাঁড়াবে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর একটা সুসম্পর্ক রেখে তাদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানো এবং এখানে একটা সুসম্পর্ক তৈরি করা। সেগুলোর জন্য যতটুকু দরকার, সে উদ্যোগ তো আমরা অবশ্যই নেব।
সেদিন রাতে হঠাৎ করেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার স্বামীর কবর জিয়ারত করতে গিয়েছেন। এটা কি কোনো বিশেষ বার্তা বহন করছে?
মির্জা ফখরুল: আমাদের নেত্রী তো বহুদিন— প্রায় ১৮ বছর সেখানে কবর জিয়ারত করতে যেতে পারেননি। শুধু এখন একটু সুস্থ বোধ করছেন, একটু ভালো লেগেছে। তো ডাক্তার তাকে বলেছে মাঝে মাঝে বাইরে যেতে। এজন্য তিনি প্রথমেই (আদার দেন ট্রিটমেন্ট) শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করতে বাইরে গেছেন।
বেগম খালেদা জিয়া আগামীতে নির্বাচনি প্রচারণায় নামবেন কি না?
মির্জা ফখরুল: সেটা তো সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করবে। যেহেতু তিনি আমাদের চেয়ারপারসন, তিনি হচ্ছেন লিজেন্ডারি লিডার। সে কারণে তিনি নির্বাচনে প্রচারণাতে নামেন, এমনটা যদি হয়, সেটা বিএনপির জন্য একটা বিরাট একটা প্লাস পয়েন্ট হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার সম্ভাবনা কবে নাগাদ? কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে?
মির্জা ফখরুল: নিরাপত্তার ঝুঁকি দেখি না, তবে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দলীয় দাবি। তাছাড়া তার বিভিন্ন বিষয়গুলো তো আমাদের দেখতে হবে পার্টি হিসেবে। এখানে তার আবাসন— কারণ তার তো কোনো বাড়ি নেই এখানে। চেয়ারম্যান অব এ পার্টি, তার একটা বাড়ি দরকার হচ্ছে। অ্যাট দ্য সেম টাইম তার অফিস ঠিক করা দরকার। তার জন্য গাড়ি ঠিক করা হচ্ছে। কিছু সময় লাগছে। মোটামুটিভাবে তো তৈরি হয়ে আসছে সব, খুব শিগগিরই আসছেন।
বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে কে হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী?
মির্জা ফখরুল: আমাদের দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যদি সুস্থ থাকেন এবং কাজ করার উপযোগী থাকেন, তাহলে তো তিনি হবেন। তার অনুপস্থিতিতে আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান হবেন। এ ব্যাপারে কোনো দ্বিমত বা দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই।
রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন