প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৩৩
মেকদাদ মেঘ: সাহিত্য জীবনের তৃপ্তি অতৃপ্তি ও সাহিত্য সাধনায় লেগে থাকা নিয়ে আপনার কী রকম অভিমত?
সুনির্মল সেন:'সাহিত্য' জীবন -যৌবনের বেঁচে থাকার আশা -ভরসা। এখানে লেগে থাকলে আর মৃত্যু নেই।
মেকদাদ মেঘ: সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চায় পঠন-পাঠন কতটুকু জরুরী?
সুনির্মল সেন : অবশ্যই জরুরি। সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা থেকে নতুন প্রজন্মের মানুষেরা অনেকটা সরে যাওয়ায়
দেশে অপসংস্কৃতির দখল বাণিজ্য বাড়ছে। এখানে বেশি বেশি করে বাস্তব জীবনধর্মী বই -পুস্তক পাঠ করতে হবে অপরকে সেটা পাঠ করাতেও হবে।
মেকদাদ মেঘ : শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির জাগরণ কেনো জরুরি?
সুনির্মল সেন : অন্ধ-কুসংস্কার-গোড়ামি দেশের মানুষের মাঝে এতো বেশি বেড়ে গেছে। মানুষ অপরের ওপর ভরসা করে জীবন পরিচালনা করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। এখানে প্রতিটি মানুষকে স্বনির্ভর করতে বাস্তবতা নির্ভর শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির বিকিরণ বা, বিস্ফোরণ ঘটাতে হবে। তাই দেশে এখন শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির জাগরণ খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। এমন পদক্ষেপ নেওয়া গেলে মানুষ অন্ধ,কুসংস্কার গোড়ামি থেকে মুক্ত হবে।
মেকদাদ মেঘ :সাংস্কৃতিক জাগরণ ও রাজনৈতিক জাগরণ দুইটির সম্পর্ক কেমন? কোনটি আগে প্রয়োজন?
সুনির্মল সেন :বর্তমান সময়ে সুস্থ সংস্কৃতি অনুপস্থিতির কারণে রাজনৈতিক জাগরণ ঘটছে না। প্রথমে সাংস্কৃতিক জাগরণ ঘটাতে পারলে এমনিতে রাজনৈতিক জাগরণ ঘটতে বাধ্য।
মেকদাদ মেঘ: পৃথিবীতে এতো সাম্রাজ্যবাদ ঔপনিবেশবাদ অমানবিকতা এর থেকে উত্তরণের জন্য মানুষের কী কী করণীয়?
সুনির্মল সেন : সমাজ,রাষ্ট্র, মানুষের মাঝে শ্রেণী বৈষম্য দূর
না হলে মানবিকতা ফিরে আসবে না। এসব সকল বাধ দূর করতে পারলে মানুষের মাঝে বৈষম্য ফিরে আসবে। আদিতে যখন সমাজে সাম্য ছিলো তখন মানুষ সমান সমান ভাবে সকল কিছু বন্টন করে নিতো, তখন মানুষের মাঝে তেমন ঝামেলা ছিলো না। সেই সময়ের ব্যবস্থার কথা স্মরণ করে আমাদের বাস্তবতা নির্ভর ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
মেকদাদ মেঘ:.একবিংশ শতাব্দীতে সুফিবাদ বৈষ্ণববাদ ও মানবতাবাদের সংকটগুলো কী রকম? এর থেকে উত্তরণ কীভাবে সম্ভব?
সুনির্মল সেন: সুফিবাদ - বৈষ্ণববাদ একটা আরেকটার পরিপূরক। তবে মানবতাবাদ আজকের বিশ্বের এমন হানা-হানির পরিস্থিতিতে খুবই জরুরি।
সকল কাল, সকল সময়ে এই মানবতাবাদকে সকল দর্শনের উপরে স্থান দিতে হবে। কোনো রাষ্ট্র, কোনো সমাজ যখন এই মানবতাবাদকে আকড়ে ধরে যতোক্ষণ পর্যন্ত তার অবস্থান থেকে সরে যায় নি, সেখানে দেখা গেছে মানুষের উচু-নিচু ভেদাভেদ বা বৈষম্য আস্তে আস্তে ক্ষয়িষ্ণু পর্যায়ে চলে গেছে।
আমি কোনো বড় পন্ডিত নয়, হাজার হাজার বই-পুস্তকও আমার পক্ষে পড়াশুনা করা সম্ভব হয়নি। তারপরেও একসময় বাম প্রগতিশীল রাজনীতি করেছি, কিছু বই-পুস্তক-পার্টির নিকট থেকে নিয়ে পড়েছি। সেখানে দেখেছি মূলত প্রধান হিসেবে দুটি শ্রেনির কথা বলা হয়েছে। শোষক আর শোষিত শ্রেণীর কথা। শোষিত শ্রেণীর পক্ষে যারা কথা বলেছে বা আজও বলে যাচ্ছে।
তাদের সেই বলাটা সত্য হলেও বাস্তবে বড়ই কঠিন। এই পথকে সুগম করতে হলে সুফিবাদ -বৈষ্ণববাদ এর মতো মতাদর্শকে আলিঙ্গন করে মানবতাবাদ প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তবেই সম্ভব হবে সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠিত করা।
মেকদাদ মেঘ :পৃথিবীর মানুষ এগোচ্ছে না পিছিয়ে পড়ছে আপনার কী মনে হয়
সুনির্মল সেন : পৃথিবীর মানুষ কিন্তু এগিয়ে যাচ্ছে! এখানে হতাশার কোনো স্থান নেই। আমি দেখতে পাই অনেক দেশে এই বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ তার কর্মক্ষেত্রে তথাকথিত ধর্মের নামে সময় ক্ষেপন না করে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে! সেখানে কোনো ধর্মের দোয়াই দিয়ে অলস সময় কাটাচ্ছে না। তাইতো এই সব দেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে।
আমাদের এখানে ধর্মের নামে ব্যাপক সময় কাটিয়ে অর্থ উপার্জনসহ জ্ঞান -বিজ্ঞান চর্চার একপ্রকার গুরুত্বপূর্ণ একটা সময়কে নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। সেই অলস কাজগুলো অনেক আগ থেকে আমাদের এখানে পিতা মাতা,বাপ দাদার আমল থেকে চলে আসছে। আমরা প্রগতি মানবতা ও সাম্যেের সেই পথে না গিয়ে আজও ভূল পথে হাটছি। এই পথ পরিত্যাগ না করলে আমাদের এই জাতি ভিক্ষুকের জাতিতে পরিনত হবে।
পৃথিবীর মানুষ এগিয়ে যাচ্ছে। তারা বাস্তববাদি। তাদের মাঝে কোনো হতাশা নেই। আর আমাদের এখানে ব্যাপক মানুষের একটি অংশ আল্লাহ, ভগবানের ভরসায় দিন কাটায়,সময় ক্ষেপন করে।
তারা বিভিন্ন ভাবে পিছিয়ে পড়ছে।
মেকদাদ মেঘ: সময় বা মহাকাল কবির নাকি কবি সময় ও মহাকালের
সুনির্মল সেন : কবির কোনো সময় বা মহাকাল নেই! কবি কবি-ই কবি সকল কালের। কবি সকলের উর্ধ্বে।
মেকদাদ মেঘ :নতুন প্রজন্ম নিয়ে আপনার কেমন প্রত্যাশা
সুনির্মল সেন : এই প্রজন্ম অনেক কিছু দিতে পারে। তবে এই নতুন প্রজন্মকে সঠিক ভাবে গাইড করতে পারলে,তাদের কাছে জাতি অনেক কিছু আশা করতে পারে। তাদের প্রতি আমার প্রত্যাশা অনেক।
শিল্প সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন