সিলেট

সিলেটে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:০৪

দেশে জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। এর ফলে সিলেট অঞ্চলে তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে, যা নগর ও গ্রামাঞ্চলের জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

সিলেট মহানগর এলাকায় প্রতিদিনই একাধিকবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে দীর্ঘ সময় পর তা ফিরে আসছে। শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সারাদিনই বিদ্যুৎ ছিল আসা-যাওয়ার মধ্যে। ইলেকট্রিক সাপ্লাই এলাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও দুপুরে ৩ থেকে ৪ বার বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে, প্রতিবার প্রায় এক ঘণ্টা বিরতিতে বিদ্যুৎ ফিরে আসে। ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি।

অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও নাজুক। বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিনই বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ আসছে। অনেক এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও ২ মিলিয়ে মোট গ্রাহক প্রায় ১২ লাখ ২০ হাজার। এদের সবাইকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

পিডিবি সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী মো. ইমাম হোসেন জানান, শুক্রবার পিক আওয়ারে চাহিদা ছিল ২২৫ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৮৫ মেগাওয়াট—ঘাটতি ৪০ মেগাওয়াট। তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে এমন ধারণা রয়েছে, যার প্রভাব বিদ্যুৎ উৎপাদনে পড়তে পারে।”
পিডিবির সহকারী প্রকৌশলী জারজিসুর রহমান জানান, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ মিলিয়ে পিডিবির গ্রাহক প্রায় ৫ লাখ ৬৫ হাজার। পিক আওয়ারে চাহিদা থাকে ২৩০ মেগাওয়াট। লোডশেডিং থাকলে সরবরাহ নেমে আসে ১৪০ থেকে ১৮০ মেগাওয়াটে।

সিলেট জেলা ও মহানগরে পিডিবির গ্রাহক প্রায় আড়াই লাখ। এখানে পিক আওয়ারে চাহিদা ১৬০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ থাকে ১০০ থেকে ১২০ মেগাওয়াটের মধ্যে।

পল্লী বিদ্যুতের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) মো. আব্দুর রশীদ জানান, তাদের গ্রাহক ৪ লাখ ২০ হাজার। পিক আওয়ারে চাহিদা ১০৫ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭৩ মেগাওয়াট, অর্থাৎ ঘাটতি ৩২ মেগাওয়াট।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার মো. রবিউল হক জানান, তাদের গ্রাহক সংখ্যা ২ লাখ ৩৫ হাজার। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পিক আওয়ারে চাহিদা ৪৫ থেকে ৫০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ১৮ থেকে ২৫ মেগাওয়াট।

সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় সিলেটজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। তবে দ্রুত এই পরিস্থিতির উন্নতির কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন


বিজ্ঞাপন