ট্রাফিক আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। হেলমেট ব্যবহারকারী মোটরসাইকেল আরোহীদের মিষ্টিমুখ করানোর পাশাপাশি যারা হেলমেট ছাড়া চলাচল করছিলেন, তাদের হেলমেট উপহার দিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ।
রোববার (১৪ জুন) ট্রাফিক পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে নগরের চৌহাট্টা পয়েন্টে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। একইসঙ্গে নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেও সচেতনতামূলক এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
এদিন দুপুরে ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে নগরের পুলিশ লাইনস থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি রিকাবীবাজার পয়েন্ট ঘুরে পুনরায় পুলিশ লাইনসে এসে শেষ হয়।
পরে পুলিশ লাইনস হলরুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন এসএমপি কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী, অতিরিক্ত কমিশনার এনামুল হক এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী।
এসএমপির উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) সুদীপ্ত রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-কমিশনার (উত্তর) সাইফুল ইসলাম, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম, সময় টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি ইকরামুল কবীর, অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি গুলজার আহমদ, দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন এবং নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সিলেটের সভাপতি জহিরুল ইসলাম মিশুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেট নগরের বিদ্যমান সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো থেকে পর্যাপ্ত মানসম্পন্ন ছবি পাওয়া যায় না। তাই অপরাধ দমন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে উন্নতমানের সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এসব ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ এসএমপিকেও দেওয়া হবে, যাতে দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার অপরাধ দমনে আন্তরিক। দ্রুত বিচার নিশ্চিত হলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হবে এবং অপরাধ প্রবণতা কমবে।
এ সময় তিনি সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ট্রাফিক সপ্তাহ শুধু একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়; নিজের জীবন ও অন্যের নিরাপত্তার স্বার্থেই সড়ক আইন মেনে চলতে হবে।
এসএমপি কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, হত্যাকাণ্ডের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় অনেক বেশি মানুষ প্রাণ হারান। বিশেষ করে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক। তাই মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের অবশ্যই হেলমেট ব্যবহার করতে হবে এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে।
এ সময় ট্রাফিক এডুকেশন নেটওয়ার্কের আওতায় পালনীয় ১০টি নির্দেশনা সম্বলিত প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়। নির্দেশনাগুলো হলো—
১. রাস্তায় চলাচলের সময় ফুটপাত ব্যবহার করতে হবে।
২. ফুটপাত না থাকলে রাস্তার ডান পাশ ঘেঁষে হাঁটতে হবে।
৩. রাস্তায় হাঁটার সময় মোবাইল ফোন বা হেডফোন ব্যবহার করা যাবে না।
৪. রাস্তা পারাপারের সময় ফুটওভার ব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করতে হবে।
৫. ফুটওভার ব্রিজ বা জেব্রা ক্রসিং না থাকলে ডান-বাম দিক দেখে সতর্কতার সঙ্গে রাস্তা পার হতে হবে এবং প্রয়োজনে ট্রাফিক পুলিশের সহায়তা নিতে হবে।
৬. কোনো অবস্থাতেই তাড়াহুড়া করা যাবে না এবং রাস্তা পারাপারের সময় হঠাৎ দৌড়ে যাওয়া যাবে না।
৭. চলন্ত যানবাহনে ওঠানামা থেকে বিরত থাকতে হবে।
৮. যানবাহন থেকে নামার সময় বাম পা আগে নামাতে হবে।
৯. ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর ট্রাফিক আইন মেনে যানবাহন চালাতে হবে।
১০. ট্রাফিক সাইন ও ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জানতে হবে, তা মেনে চলতে হবে এবং নিষিদ্ধ বা অবৈধ যানবাহনে চড়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন