প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ ২১:০৮
সিলেট থেকে হেল্থ কেয়ার ভিসায় যুক্তরাজ্যে পাঠানোর কথা বলে বিভিন্ন প্রলোভনে অর্থ আত্মসাৎকারী প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার রায়গড় পুরান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন কয়েছ আহমদ (৪০)। তিনি গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর এলাকার ময়নুল হকের ছেলে।
র্যাব জানায়, মামলার বাদী গোলাপগঞ্জ থানাধীন গৌরাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল আহাদ (৫৯)। বাদী ও মামলার আসামিরা পরস্পর আত্মীয়। আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাদীর অসহায়ত্ব এবং বেকার সন্তানদের বিদেশে পাঠানোর আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা করেন।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করেন যে, হেল্থ কেয়ার ভিসায় যুক্তরাজ্যে লোক পাঠানো হচ্ছে এবং তাদের কাছে একাধিক ভিসা রয়েছে। তাদের কথায় বিশ্বাস করে বাদী তার ছেলে আব্দুল আহসান সুহেদকে ৪০ লাখ টাকার বিনিময়ে আসামি মো. জসিম উদ্দিনের সহায়তায় হেল্থ কেয়ার ভিসায় যুক্তরাজ্যে পাঠানোর উদ্যোগ নেন।
পরবর্তীতে আব্দুল আহবাব পারভেজ ও মো. সায়েমও হেল্থ কেয়ার ভিসায় যুক্তরাজ্যে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। আসামিরা তাদের জানান, যুক্তরাজ্যে যেতে মোট ৮০ লাখ টাকা প্রয়োজন এবং ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে চার থেকে ছয় মাস সময় লাগবে। বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৩ সালের ১৮ মে থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে মোট ৬০ লাখ টাকা নেওয়া হয় বলে র্যাব জানায়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীদের মেডিকেল পরীক্ষা ও বিদেশ যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। টাকা পরিশোধ ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর তারা ভিসার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু প্রায় এক বছর পার হলেও ভিসা প্রক্রিয়ায় কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তারা আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
এ সময় আসামিরা বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীদের সন্দেহ হলে আসামি রিমি বেগমের দেওয়া ভিসাসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে সেগুলো জাল ও ভুয়া বলে জানতে পারেন।
পরে ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে আসামিরা টাকা ফেরত না দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গোলাপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর র্যাব-৯ সিলেটের একটি আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে গোলাপগঞ্জ থানার মামলায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে ধারায় এজাহারনামীয় ৪ নম্বর আসামি কয়েছ আহমদকে গ্রেফতার করে।
এ তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতার আসামিকে গোলাপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯-এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন