সিলেট

শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে দুদক চেয়ারম্যানকে লেখা চিরকুট, ১০ জনের নাম

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ২২:৪১

সিলেটের হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজারের দানবাক্সে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর লেখা একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। এতে মাজারের দান-অনুদানের অর্থ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। চিরকুটে ১০ জনের নাম উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাজারের দানবাক্স খোলার পর চিরকুটটি পাওয়া যায়।

চিরকুটে দানবাক্সে সংগৃহীত অর্থ গণনা, হিসাব সংরক্ষণ, ব্যাংকে জমা এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, দেশ-বিদেশ থেকে আসা ভক্ত ও দর্শনার্থীরা শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস থেকে মাজারে দান-অনুদান দেন। এসব অর্থের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে স্বচ্ছ হিসাবব্যবস্থা, জবাবদিহি ও নিয়মিত নিরীক্ষা প্রয়োজন।

দানবাক্সের অর্থ ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি বা অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে দুদকের সরাসরি হস্তক্ষেপও কামনা করা হয়েছে।

চিরকুটে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দাবি করে শামুন মাহমুদ খান, নূর ইসলাম পচা, রুহের আহমদ মনি, রং বাবুল, দেওয়ান, তাহের, ধান চুরা আক্তার, সৌরভ সোহেল (বাবুর্চি), বকরি খোকন ও বদ্রনূর সায়েকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শেষোক্ত ব্যক্তির নাম ও পরিচয় সঠিক কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন বলেও চিরকুটে উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া মাজারের দানবাক্সের অর্থ গণনা, ব্যাংকে জমা, ব্যয়ের খাত এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথিপত্র পরীক্ষা করে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। তদন্তে অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চিরকুটের লেখক।

তবে চিরকুটটি কে বা কারা দিয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে দুদক কিংবা মাজার কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

চিরকুটে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

 

সিলেট থেকে আরো পড়ুন