সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে রয়েছে মাত্র ৩৪টি শয্যা। অথচ প্রতিদিন এই বিভাগে ভর্তি থাকেন প্রায় ১৫০ জন রোগী। শয্যার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনের তুলনায় জনবলও অনেক কম। প্রায় ১৫০ জন রোগীর জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক নার্স থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ২০ জন সেবিকা দিয়ে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া ল্যাব টেকনিশিয়ান, ওয়ার্ড বয় ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকটও রয়েছে। ফলে সীমিত জনবল নিয়ে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
শয্যা সংকটের কারণে হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের বারান্দা, করিডোর থেকে শুরু করে ওয়ার্ডের প্রবেশমুখের মেঝেও রোগীদের অস্থায়ী আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। বেড না পেয়ে অনেক রোগী মেঝেতে অবস্থান করেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে বিভাগের সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
**এক সেবাগ্রহীতা বলেন**, হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে চরম ভোগান্তির মধ্যে থাকতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে মেঝেতে থেকেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে তাদের।
তবে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা দিতে কাজ করে যাচ্ছেন বিভাগের চিকিৎসক ও নার্সরা। তাদের আন্তরিকতা ও সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেক রোগী ও স্বজন।
**আরেক সেবাগ্রহীতা বলেন**, শয্যা সংকট থাকলেও চিকিৎসক ও নার্সরা আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসা দিচ্ছেন এবং চিকিৎসাসেবার মান ভালো।
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, গত এক মাসে হৃদরোগ বিভাগে ১৫ জন রোগীর **টেম্পোরারি পেসমেকার (টিপিএম)** স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া **করোনারি এনজিওগ্রাফি (সিএজি)** করা হয়েছে ১০২ জনের এবং **পারকিউটেনিয়াস করোনারি ইন্টারভেনশন (পিসিআই)** বা স্টেন্ট বসানো হয়েছে ১২ জন রোগীর। সব মিলিয়ে গত এক মাসে গুরুত্বপূর্ণ এসব হৃদরোগজনিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে ১১৪টি।
হৃদরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান **ডা. মো. শুয়াইব আহমদ (শোয়েব)** বলেন, দেশে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। এ অবস্থায় উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হৃদরোগ বিভাগে শয্যা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এখন সময়ের দাবি।
তবে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আশার কথা শোনাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক **ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রাশেদ মুনির** জানিয়েছেন, শয্যা সংকট নিরসন এবং চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে ১৭ তলা একটি নতুন ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। এই ভবনে এক ছাদের নিচে ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগের আধুনিক চিকিৎসাসেবা প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।
রোগীর চাপ যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার চাহিদাও। কিন্তু সেই তুলনায় বাড়ছে না শয্যা ও জনবল। ফলে হৃদরোগীদের নিরাপদ, সময়োপযোগী ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত হৃদরোগ বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
**মহসিন রনি**
**আরটিভি, সিলেট**
**মোবাইল: ০১৮৫৪০৮৮১৩৫**
সিলেট থেকে আরো পড়ুন