সিলেট

শেখ হাসিনার বিচার, সংস্কার ও রাজনৈতিক ঐক্যের আহ্বান জানালেন: সিলেটে কর্নেল অলি

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ ২০:১৭

আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার, সংবিধান সংস্কার, রাজনৈতিক সংস্কার এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম)।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সিলেট নগরীর সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় মহাসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণহত্যার বিচার, সংবিধান সংস্কার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে দেশব্যাপী চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

বক্তব্যে কর্নেল অলি আহমদ শেখ হাসিনার বিচার প্রসঙ্গে বলেন, তিনি মনে করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে আইনের আওতায় বিচার হওয়া উচিত। এ সময় তিনি এ বিষয়ে একটি কঠোর রাজনৈতিক মন্তব্যও করেন।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সিলেটের জামাতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা একটি জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। এজন্য দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তারেক রহমানের উদ্দেশে কর্নেল অলি বলেন, তিনি যেন দলীয় নয়, সমগ্র দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই ব্যক্তি যেন একসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও দলীয় প্রধান না থাকেন—এমন প্রস্তাবও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শ অনুসরণ করে বিবেকের আলোকে রাষ্ট্র সংস্কারের আহ্বান জানান।

জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক শৃঙ্খলার প্রশংসা করে এলডিপি সভাপতি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দলটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে তিনি তাদের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও শৃঙ্খলাকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাহিদ ইসলাম এবং খেলাফত মজলিসের নেতা মামুনুল হক একসঙ্গে আন্দোলন করলে সরকারের ওপর বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে কর্নেল অলি আহমদ অভিযোগ করেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যও বেড়েছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে রাজনৈতিক আন্দোলন আরও জোরদার হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আমজাদুল ইসলাম চান।

সিলেটের এ মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের দেশব্যাপী বিভাগীয় কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
 

সিলেট থেকে আরো পড়ুন


বিজ্ঞাপন