প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:৩৬
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের একটি বিশেষ দল হাসপাতালটিতে অভিযান চালায়। অভিযানে চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও কর্মঘণ্টা পালনের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই করা হয়।
অভিযানে অংশ নেওয়া দুদক সিলেটের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, গত ৩০ দিনের চিকিৎসকদের বায়োমেট্রিক হাজিরার তথ্য যাচাই করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিউটি রেজিস্টার ও ছুটি সংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে সংগৃহীত নথিপত্র ও হাসপাতালের চিকিৎসকদের উপস্থিতির চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চিকিৎসকদের একটি বড় অংশ নির্ধারিত কর্মঘণ্টা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছেন না। কেউ কেউ নির্ধারিত সময়ের পর হাসপাতালে আসছেন, আবার অনেকে কর্মঘণ্টা শেষ হওয়ার আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করছেন।
অভিযানকালে দুদক টিম হাসপাতালের সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার মানও পর্যবেক্ষণ করে। রোগীরা চিকিৎসকদের কাছ থেকে যথাযথ সেবা পাচ্ছেন কি না, সে বিষয়েও তথ্য নেওয়া হয়। পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে দুদকের সিলেট সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুবেল আহমদ বলেন, ‘চিকিৎসকদের হাসপাতালে উপস্থিতিসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও বায়োমেট্রিক ডেটা সংগ্রহ করেছি। আরও কিছু তথ্য আগামীকাল পাওয়া যাবে। সব তথ্য বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করে ঢাকার কার্যালয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এরপর ঢাকার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি চাকরি করলে চিকিৎসকদের অবশ্যই সরকার নির্ধারিত কর্মঘণ্টা মেনে চলতে হবে। নির্ধারিত কর্মসময়ের মধ্যে কেউ প্রাইভেট প্র্যাকটিস করলে সেটিও গুরুতর বিষয়। আমরা এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখছি।’
এর আগে গত ১ আগস্ট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির এক বিজ্ঞপ্তিতে চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে উপস্থিতি ও প্রস্থান নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
বিজ্ঞপ্তিতে চিকিৎসকদের হাসপাতালে প্রবেশের সময় সকাল ৮টা এবং প্রস্থানের সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিট নির্ধারণ করা হয়। তবে সাম্প্রতিক বায়োমেট্রিক হাজিরার তথ্য পর্যালোচনায় চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে ব্যাপক অসঙ্গতি পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
বায়োমেট্রিক তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টার পর হাসপাতালে উপস্থিত হওয়ার হার বহির্বিভাগে ৪৮ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগে ৬৫ শতাংশ। অর্থাৎ নির্ধারিত সময় সকাল ৮টার এক ঘণ্টা পরও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক কর্মস্থলে উপস্থিত হচ্ছেন।
অন্যদিকে, নির্ধারিত সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের আগেই হাসপাতাল ত্যাগের প্রবণতাও বেশি বলে ওই তথ্য থেকে উঠে আসে। এতে দেখা যায়, বহির্বিভাগের ৯৬ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগের ৯০ শতাংশ চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করছেন।
এদিকে, মঙ্গলবারের অভিযানে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পর চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুদক।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন