সিলেট

সিলেট বিভাগের যে জায়গায় ঝড়ে লন্ডভণ্ড ৬ বসতঘর

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:০০

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের আমানীপুর গ্রামে আকস্মিক ঝড়ে ছয়টি বসতঘর লন্ডভণ্ড হয়ে গেছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে হঠাৎ ঝোড়ো বাতাস শুরু হলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘরগুলোর টিনের চাল ও বেড়া উড়ে যায়। একই সঙ্গে বাড়ির গাছপালা ভেঙে পড়ে এবং ঘরে থাকা আসবাবপত্র, ধান-চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ছয়টি পরিবারের লোকজন দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুধবার রাত ১১টার দিকে হঠাৎ করেই এলাকায় ঝোড়ো বাতাস শুরু হয়। প্রথমে বাতাসের গতি তুলনামূলক কম থাকলেও কিছুক্ষণের মধ্যে তা তীব্র আকার ধারণ করে। এ সময় আমানীপুর গ্রামে বাড়িঘরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। কয়েকটি ঘরের টিনের চাল বাতাসে উড়ে যায়। কোনো কোনো ঘরের বেড়া ও অন্যান্য অংশ ভেঙে পড়ে। পাশাপাশি বাড়ির গাছপালা উপড়ে ও ভেঙে পড়ে ঘরবাড়ির আরও ক্ষতি হয়।

ঝড়ের সময় বেশিরভাগ পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। আকস্মিকভাবে টিনের চাল ও বেড়া উড়ে যেতে থাকায় তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ঘরে থাকা দুইজন পুরুষ ও এক নারী মাথায় আঘাত পান। পরে তারা স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য মানিক সরকার ও মনিন্দ্র সরকার বলেন, ঝড়ে আমাদের ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঘরের চাল ও বেড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ায় রাতেই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য অন্যত্র যেতে হয়েছে। ঝড়ের কারণে ঘরে থাকা আসবাবপত্রও নষ্ট হয়েছে। সংরক্ষণ করে রাখা ধান-চালসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন করে ঘর ঠিক করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংকট ও খাদ্যসংকট নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছি।’

তারা বলেন, ‘আকস্মিক ঝড়ে মুহূর্তের মধ্যেই আমাদের বসতঘরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক পরিবার ঘরের চাল ও বেড়া হারিয়ে দুর্ভোগে পড়েছে। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ঘর মেরামতের চেষ্টা করলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষে পুরো ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

উপজেলার আমানীপুর গ্রামের বাসিন্দা জামাল মিয়া বলেন, ‘ঝড়ে আমানীপুর গ্রামের কয়েকটি পরিবারের ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকের ঘরে থাকার মতো পরিস্থিতি নেই। দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এ অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা কামনা করছি।’

এ তথ্য নিশ্চিত করেন মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জনি রায় বলেন, ‘ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়ার পরই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য খাবারের ব্যবস্থা করে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী টিনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে তা বিতরণ করা হবে।’

সিলেট থেকে আরো পড়ুন


বিজ্ঞাপন